Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তারাতলা বিপর্যয়: অতীত সরকারের ‘সমন্বয়হীনতা’ উধাও, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বহু প্রাণ বাঁচাল প্রশাসন!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার বুকে ঘটে গেল এক বড়সড় বিপর্যয়। গত বুধবার দুপুরে তারাতলার ব্রেসব্রিজ এলাকার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে একটি নির্মাণাধীন তিনতলা বেসরকারি গোডাউনের ছাদ ও লোহার বিশাল শেড হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বহু কর্মরত শ্রমিক। এই চরম সংকটের মুহূর্তে সাধারণত অতীতে যা দেখা যেত— প্রশাসনিক ঢিলেমি ও দপ্তরের টানাপোড়েন— তা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক তৎপরতার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি নজরদারি এবং একাধিক সরকারি দপ্তরের অবিশ্বাস্য দ্রুত সমন্বয়ের কারণে ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

অতীতে পোস্তা ফ্লাইওভার বা মাঝেরহাট ব্রিজ বিপর্যয়ের সময় বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে যে সমন্বয়ের অভাব ও চাপানউতোর লক্ষ্য করা যেত, তা বর্তমান প্রশাসনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উধাও। বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ঘড়ির কাঁটা মেপে কাজ শুরু করে প্রশাসন। খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)।কিন্তু শুধু গতানুগতিক পদ্ধতিতে আটকে না থেকে, ধ্বংসস্তূপের ভারী লোহার বিম সরাতে যাতে আর একটিও প্রাণের ক্ষতি না হয়, তার জন্য নবান্ন থেকে সরাসরি তৎপরতা দেখান মুখ্যমন্ত্রী। কোনো দীর্ঘ দাপ্তরিক প্রক্রিয়া বা লাল ফিতের ফাঁস ছাড়াই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের ঘটনাস্থলে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেনা, এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ, কলকাতা পুলিশ, পুরসভা এবং দমকল— এই ছ’টি ভিন্ন এজেন্সি যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গ্যাস কাটার এবং হাইড্রলিক ল্যাডার নিয়ে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকাজ চালিয়েছে, তা বাংলার ইতিহাসে প্রথম।

দুর্ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নবান্ন থেকে সোজা তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে ছোটেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে। তাঁর সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। মুখ্যমন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে উদ্ধারকাজের তদারকি করেন এবং আটকে থাকা মানুষদের সাহস জোগান। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রশাসন এক মুহূর্ত দেরি না করে ‘গ্রিন করিডোর’ তৈরি করে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করে, যার ফলে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই ঠেকানো গেছে। চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের প্রতি মুহূর্তের স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখছেন চিকিৎসকদের একটি বিশেষ মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি দল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষের লিজ দেওয়া জমিতে বেসরকারি সংস্থা ‘বেহেরা ব্রাদার্স’ দ্বারা এই ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজটি চলছিল, যা পূর্ববর্তী সরকারের আমলে অনুমোদন পেয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ যে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এবং সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক বিল্ডিং প্ল্যানে এই কাজ চলছিল। বর্তমান সরকার কেবল উদ্ধারকাজেই ক্ষান্ত থাকেনি, দুর্ঘটনার পরেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে প্রশাসন। কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা এলাকার অধীনে পূর্ববর্তী সরকারের অনুমোদিত সমস্ত নির্মাণাধীন বাণিজ্যিক প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে এবং এগুলির একটি বিস্তারিত ও কঠোর ‘নিরাপত্তা অডিট’ করা হবে।

বিপর্যয় সবসময়ই যন্ত্রণাদায়ক, কিন্তু সেই বিপর্যয়কে কত দ্রুত ও মানবিকতার সাথে সামলানো যায়, তা প্রমাণ করল বর্তমান সরকার। সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগেকার সরকারের আমলে যেখানে উদ্ধারকারী দল আসতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেত এবং রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি চলত, সেখানে বর্তমান সরকারের এই ইস্পাতকঠিন পেশাদারিত্ব এবং মানবিক সমন্বয় সত্যিই প্রশংসনীয়। রাজনৈতিক গণ্ডির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যবাসীর সুরক্ষাকেই যে সরকার সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়, তারাতলার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান তার এক অন্যতম নিদর্শন হয়ে রইল।

Exit mobile version