প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একটি আকস্মিক বিকট শব্দ, আর তার পরেই চারপাশ ঢেকে গেল সিমেন্ট ও ধুলোর ধূসর কুয়াশায়। বুধবার দুপুরে কলকাতার তারাতলার ব্রেসব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনাটি কেবল একটি বড়সড় আবাসন বিপর্যয় নয়; এটি আসলে ৯ টি খেটেখাওয়া পরিবারের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাওয়ার এক মর্মান্তিক মানবিক ট্র্যাজেডি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলজুড়ে শুধুই কান্নার রোল। যাঁরা জীবিকার তাগিদে, পরিবারের মুখে দুটো অন্ন তুলে দিতে প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে এসেছিলেন, মুহূর্তের অসতর্কতায় ও গাফিলতিতে তাঁরাই চাপা পড়লেন টন টন কংক্রিটের নিচে। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে ভারতীয় সেনা, এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF) এবং দমকল বাহিনীকে। যৌথ বাহিনীর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কংক্রিট কেটে এ পর্যন্ত ২৮ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তাঁদের চোখে-মুখে এখনও লেগে রয়েছে মৃত্যুর সেই হিমশীতল আতঙ্ক।
বর্তমানে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০ জন গুরুতর আহত শ্রমিক। হাসপাতালের করিডোরে এখন স্বজনদের ভিড়। কারও ঘরের একমাত্র উপার্জনকারী বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, তো কারও প্রিয়জন চিরতরে চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। বুকফাটা আর্তনাদ আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস।
এই ঘটনা আবারও আঙুল তুলে দেখিয়ে দিল নির্মাণ শ্রমিকদের নূন্যতম নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটিকে। লোভ আর প্রশাসনিক গাফিলতির বলি হতে হলো নিরপরাধ কিছু মানুষকে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সমস্ত বাণিজ্যিক বহুতলের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু যে প্রাণগুলো চলে গেল, যে পরিবারগুলো চিরকালের মতো অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল, সেই শূন্যতা কি কোনো তদন্ত বা আর্থিক ক্ষতিপূরণে আদেও পূরণ হওয়া সম্ভব?এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের সমাজ ও ব্যবস্থার প্রতি এক বিরাট সতর্কবার্তা। প্রতিটি শ্রমিকের জীবনের মূল্য যেন সস্তার কংক্রিটের চেয়ে বেশি হয়—আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এটাই হোক আমাদের সকলের দাবি।
