Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

BIG BREAKING: কলকাতায় বিরাট বিপর্যয়! তারাতলায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা একাধিক শ্রমিক!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ কলকাতায় তারাতলা থানা এলাকার ব্রেসব্রিজের কাছে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বুধবার দুপুরে সেখানে একটি নির্মীয়মাণ তিনতলা চায়ের গোডাউনের বিশাল লোহার শেড ও ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই চরম বিপর্যয়ের ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ জন শ্রমিক আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমিধ্যেই বেশ কয়েকজন শ্রমিককে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।

স্থানীয় এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, তারাতলা ব্রেসব্রিজের কাছে ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের সংলগ্ন এলাকায় ওই চায়ের গোডাউনটি তৈরির কাজ চলছিল। তিনতলা এই বিল্ডিংটির উপরের দুটি তলা আগেই ঢালাই হয়ে গিয়েছিল, আজ একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করার সময় আচমকা বিকট শব্দে ওপরের ভারী লোহার কাঠামো ও বিমগুলি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার সময়ে সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আকস্মিক এই পতনে শ্রমিকরা পালানোর সুযোগ পাননি। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আটকে থাকা শ্রমিকদের বাঁচার জন্য কাতর আর্জি ও আর্তচিৎকার শোনা যাচ্ছে।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানা, দমকলের একাধিক ইঞ্জিন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DMG)। লোহার বিশালাকার বিমগুলি কাটার জন্য দ্রুত নিয়ে আসা হয়েছে গ্যাস কাটার এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য নামানো হয়েছে একাধিক জেসিবি (JCB) ও ক্রেন। দুর্ঘটনাস্থলে একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স প্রবেশ করছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর জন্য পুলিশের তরফে বিশেষ গ্রিন করিডোর করার চেষ্টা চলছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। পাশাপাশি বিজেপি নেতা রাকেশ সিং সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত ত্রাণের জন্য রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তত্ত্বাবধানে নবান্নে একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার জেরে তারাতলা ও ডায়মন্ড হারবার রোড সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। উদ্ধারকাজ এখনও জারি রয়েছে এবং আটকে থাকা সমস্ত শ্রমিককে বের না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানা গেছে।

Exit mobile version