Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তারাতলা গুদাম ধস কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের; মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরই গ্রেফতার ফিরহাদের প্রাক্তন OSD ‘কালী’!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসে ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনায় (Taratala Warehouse Collapse) অবশেষে পুলিশের জালে কলকাতা পুরসভার প্রভাবশালী আধিকারিক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ‘কালী’। তিনি কলকাতা পুরসভার (KMC) প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর প্রাক্তন ওএসডি (OSD) ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কালীচরণ সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই মর্মান্তিক বিপর্যয় নিয়ে কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি কারও নাম না নিয়ে অভিযোগ করেন, কলকাতা পুরসভায় ‘কালী’ নামে এক ব্যক্তির সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো বিল্ডিং প্ল্যান বা নকশা অনুমোদন পেত না। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় কাউকেই রেয়াত করা হবে না। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সক্রিয় হয় পুলিশ এবং লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল কালীচরণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে ও পরে গ্রেফতার দেখায়।

তদন্তকারী সূত্রে খবর, তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের ওই তিনতলা নির্মীয়মাণ গুদামটি কোনো উপযুক্ত সয়েল টেস্টিং বা মাটি পরীক্ষা ছাড়াই তৈরি করা হচ্ছিল। গুদামের নকশাতেও মারাত্মক ত্রুটি ছিল। তা সত্ত্বেও কার প্রভাবে এই বেআইনি ও ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যান পাস করানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় পুলিশ ও রেভিনিউ সার্ভিসে কাজ করতেন এবং পরবর্তীতে কলকাতা পুরসভার মেম্বার অব পার্লামেন্ট লোকাল এরিয়া ডেভেলপমেন্ট স্কিম (MPLADS) ও বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের (BEUP) কন্ট্রোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব সামলান। পুরসভার অন্দরে তিনি সমান্তরাল ক্ষমতা চালাতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার দুপুরে তারাতলায় এই গুদামটির ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪। আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না, তা জানতে এনডিআরএফ (NDRF), সেনা এবং কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DMG) যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ আলিপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। এই বেআইনি নির্মাণ চক্রে পুরসভার আর কোন কোন বড় আধিকারিক বা নেতা জড়িত আছেন, তা জানতে জেরা করা হবে।

Exit mobile version