প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, শাসকদলের অন্দরের ফাটল যেন ততই প্রকট হচ্ছে। পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে এবার বিদায়ী বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কে টিকিট না দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে চাল চেলেছেন, তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। আজ পূর্বস্থলীর জনসভা থেকে নাম না করে তপন চট্টোপাধ্যায়কে যে ভাষায় আক্রমণ করলেন মমতা, তাতে স্পষ্ট হয়ে গেল—দলের অন্দরে সবকিছু ঠিকঠাক নেই।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগের সুরে বলেন, “কেউ কেউ আছে কাজও করবে না, আর সারাজীবন তাঁকেই প্রার্থী করতে হবে। না, এটা দল পারে না।” রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, মমতা কি তবে পরোক্ষে মেনে নিলেন যে তাঁর দলের বিধায়ক গত ১০ বছরে এলাকায় কোনো কাজই করেননি? যদি কাজ না হয়ে থাকে, তবে তার দায় কি কেবল ওই বিধায়কের, নাকি প্রশাসনের ব্যর্থতাও এর সাথে যুক্ত? বিদায়ী বিধায়ককে সরিয়ে এবার সেখানে আনা হয়েছে প্রয়াত বাম নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা বসুন্ধরা গোস্বামীকে। মমতার দাবি, বসুন্ধরা অনেক বেশি পরিশ্রমী এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্য।
এদিকে টিকিট না পেয়ে বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, তা শাসক শিবিরের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, দলে এখন পুরনো কর্মীদের আর কোনো জায়গা নেই। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁকে এবং তাঁর অনুগামীদের দীর্ঘদিনের অবদানকে অস্বীকার করা হয়েছে। এমনকি টিকিট না পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নেওয়াকে তিনি “চরম অপমান” হিসেবে দেখছেন। তাঁর এই বিদ্রোহ এলাকার নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে এক বড়সড় ফাটল তৈরি করেছে।
তৃণমূলের এই প্রার্থী বদল এবং নেত্রীর কড়া মন্তব্যকে বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি ঘরোয়া কোন্দল হিসেবেই দেখছে। মমতা নিজেই যখন বলেন তাঁর বিধায়ক কাজ করেননি, তখন সাধারণ ভোটারদের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—উন্নয়নের দাবি তবে কতটা সত্যি? বাম আমলের নেতার কন্যাকে প্রার্থী করায় আদি তৃণমূল কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। তাঁদের মতে, “যাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তৃণমূল ক্ষমতায় এল, আজ তাঁদের উত্তরসূরিদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” বিজেপিকে সবসময় বহিরাগত বলে আক্রমণ করা তৃণমূল কেন নিজেদের গড় বাঁচাতে অন্য মতাদর্শের পরিবার থেকে প্রার্থী ধার করছে, তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধী শিবির।
পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে তপন চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামীদের এই ক্ষোভ ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের পূর্ণ সুবিধা পেতে পারে গেরুয়া শিবির।
