প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির আঙিনায় ক্ষমতার খেলা যখন তীব্র হয়, তখন দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দেও তৈরি হয় নতুন নতুন সমীকরণ। সংসদে বাদল অধিবেশন চলছে, অথচ তারই মাঝে এনডিএ (NDA)-র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় দলের বৈঠকে পর পর দু’দিন গরহাজির রইলেন বাংলার তিন হেভিওয়েট সাংসদ—আবু তাহের খাঁ, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। দিল্লির বুকে এই তিন সাংসদের অনুপস্থিতি ঘিরে যখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহেরের এক বিস্ফোরক বয়ানে জল্পনার পারদ চড়ল আরও কয়েক কাঠি!
একদিকে যখন দেশের শাসক জোট নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই দিল্লিতে সংসদের সেন্ট্রাল হলের চত্বরে দাঁড়িয়ে এই অনুপস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সাংসদেরা। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদে উপস্থিত থাকলেও শাসক জোটের কোনো বৈঠকের শরিক তাঁরা হতে চান না।ৎ
বৈঠকে না থাকা নিয়ে জল্পনা তৈরি হতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চাঁছাছোলা ভাষায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুর্শিদাবাদের প্রবীণ সাংসদ আবু তাহের খাঁ। কোনো রকম ধোঁয়াশা না রেখে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের এই অনুপস্থিতি অত্যন্ত সচেতন এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আবু তাহের সাফ বলেন, “আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, আমরা এনডিএ-তেও নেই, আবার বিজেপি-তেও নেই। ফলে এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে আমাদের থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবে হ্যাঁ, আমরা উন্নয়নের স্বার্থে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে অবশ্যই সামিল হব। বাংলার মানুষের স্বার্থে, বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আমাদের এই যোগাযোগ ও বৈঠক জারি থাকবে।”
ক্রিকেট ময়দানের ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ চরিত্র ইউসুফ পাঠান কিংবা খলিলুর রহমানের মতো সাংসদেরা এই বৈঠকে গরহাজির থেকে প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিলেন, দিল্লির সমীকরণ যাই হোক না কেন, বাংলার রাজনীতির রাশ তাঁরা নিজেদের হাতেই রাখতে চান। শাসক শিবিরের এই বৈঠক বয়কট এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এই প্রকাশ্য আনুগত্য প্রকাশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। উন্নয়নের স্বার্থ আর রাজনীতির বাধ্যবাধকতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে দিল্লির বুকে বাংলার এই তিন সাংসদের পরবর্তী পদক্ষেপ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
