Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

এনডিএ বৈঠক এড়িয়ে সোজা অমিত শাহের দরবারে! মুর্শিদাবাদের ৩ সাংসদকে নিয়ে তোলপাড় দিল্লি!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটের মেগা বৈঠক পরপর দু’বার এড়িয়ে যাওয়ার পর, নাটকীয় মোড় নিলেন তৃণমূলত্যাগী মুর্শিদাবাদের তিন হেভিওয়েট সংখ্যালঘু সাংসদ। গতকাল, ৬ আগস্ট ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারলেন তাঁরা। এনসিপিআই (NCPI) দলের এই তিন সাংসদ হলেন বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান, মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান। বিজেপি তথা এনডিএ জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে যখন তীব্র জল্পনা ও টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই অমিত শাহের সঙ্গে এই হাইপ্রোফাইল সাক্ষাৎ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বৈঠক শেষে জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান সংবাদমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট করেন যে, এই বৈঠক কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রশাসনিক ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান থেকে লাউডস্পিকার খোলার নির্দেশ দিচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাংসদরা। তাঁরা দাবি করেন, এই আইন যেন সমানভাবে, সংবেদনশীলতার সাথে এবং কোনো বিশেষ সম্প্রদায়কে টার্গেট না করে কার্যকর করা হয়, যাতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে। মুর্শিদাবাদে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং ট্রাইব্যুনালে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আপিল মামলা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নিয়ে সরব হন তাঁরা। দ্রুত শুনানির মাধ্যমে তাদের নাম ভোটার তালিকায় ফেরানোর আর্জি জানান সাংসদরা।

সম্প্রতি বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূল ছেড়ে এই সাংসদরা বিদ্রোহী দল ‘NCPI’-তে যোগ দিলেও, গত মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে হওয়া এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠক তাঁরা পুরোপুরি বয়কট করেছিলেন। তাঁরা প্রকাশ্যেই দাবি করেছিলেন, “আমরা এনডিএ-তে নেই, বিজেপিতেও নেই”। তবে গতকাল অমিত শাহের কাছে দরবার করার পর সেই দূরত্ব ঘুচল কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। খলিলুর রহমানকে এনডিএ-র ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “আমাদের আগের অবস্থানই বহাল রয়েছে, একই প্রশ্ন বারবার করার দরকার নেই।” তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁদের সমস্ত দাবি গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।

Exit mobile version