Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

টিকিট পাওয়ার এত লোভ? এত কিছুর পরেও কোন লজ্জায় বাইরে বেরোচ্ছেন পার্থ?

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
সত্যিই কি এই মানুষটির লজ্জা বলতে কিছু আছে? যে মানুষটিকে দেখে অনেকে রাজনীতিতে এসেছিলেন, সেই মানুষটির বান্ধবীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা এবং গয়না উদ্ধার হবে, এটা কেউ কল্পনা করতে পারেননি। কিন্তু এই রাজ্যের বুকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতার বাড়ি থেকে যেভাবে বিপুল সোনা এবং নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে, তারপরে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থবাবু। দীর্ঘদিন জেলে থেকেছেন। কিন্তু জেল থেকে ফিরে আবার এখন তার ইচ্ছা হয়েছে, নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করার। এখন অনেকেই বলতে পারেন, একজন বিধায়ক তার দায়িত্ব কর্তব্য তো পালন করতেই পারেন। কিন্তু এ কেমন বিধায়ক? যার জন্য এতগুলো ছেলের চাকরি চলে গেল, যার জন্য যোগ্যরা স্বীকৃতি পেল না, তিনি তো বিন্দুমাত্র লজ্জিত হলেও এখন ঘরে বসে থাকবেন, এটাই সকলে আশা করেছিলেন। কিন্তু জেল থেকে ফিরে আসার পর আবার সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় যেভাবে আজ নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি শুরু করেছেন, তাতে সকলেই বলছেন যে, টিকিট পাওয়ার ভীষণ লোভ চেপে বসেছে পার্থবাবুর মধ্যে। আদৌ তৃণমূল কংগ্রেস তাকে টিকিট দেবে কিনা, সেটাই একটা লাখ টাকার প্রশ্ন। কিন্তু তারপরেও ক্ষমতার স্বাদ তিনি ছাড়তে পারছেন না। এতদিন ধরে যেভাবে মন্ত্রিত্ব, পদ পেয়ে এসেছেন, তাতে দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর জেল থেকে মুক্ত হয়ে আবার সেই ক্ষমতার লোভ চেপে বসেছে তার মধ্যে। আর সেই কারণেই বিধানসভা ভোটের আগে যেভাবেই হোক লোক দেখানো জনসংযোগ করে আবার পাওয়ার একটা মরিয়া চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।

তৃণমূল কংগ্রেস এই পার্থ চট্টোপাধ্যায় কি টিকিট দেবে কি দেবে না, সেটা অনেক পরের বিষয়। যদিও বা দেয়, তাহলে যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত মানুষ এবার গোহারা হারবে, এটাও খুব ভালো মতই জানে বিরোধীরা। তাই তৃণমূল যে সেই রিক্স নেবে না, এটা পার্থবাবুও খুব ভালোমতই বুঝতে পারছেন। জেল থেকে তিনি ফিরেছেন ঠিকই। কিন্তু তৃণমূল তাকে ওই জেলে যাওয়ার সময় যেভাবে সাসপেন্ড করেছে, তাতে এখনও পর্যন্ত তার প্রতি সুর নরম করেনি রাজ্যের শাসক দল। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস দূরত্ব স্থাপন করলেও, পার্থবাবু কিন্তু আঠার মত লেগে রয়েছেন। যেভাবেই হোক, পদ পাওয়া মন্ত্রিত্ব পাওয়ার আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তিনি। আর তাই আজ নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে তিনি নাকি দেখতে চাইছেন যে, তিনি জেলে থাকার সময় কি কাজ হয়েছে, তাই ভোটের আগে তিনি একটু তদারকি করতে চান। আর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই জনদরদী মনোভাব দেখেই রীতিমত তাকে ধুয়ে দিচ্ছে বিরোধীরা।

বিরোধীদের দাবি, আদৌ কি বিন্দুমাত্র লজ্জা আছে পার্থবাবুর? এতদিন ধরে জেল খেটে আসলেন, এতদিন ধরে বাংলার লজ্জা হয়ে উঠেছিলেন, তারপরেও তিনি কোন লজ্জায় এইভাবে বাইরে বেরিয়ে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষদের সঙ্গে এইভাবে ভোটের আগে জনসংযোগ করতে যান? যদি লজ্জা থাকে, আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের কাছে ক্ষমা চান। তার দুর্নীতির কারণেই তার বান্ধবীর খাটের তলা থেকে কোটি কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে জন্যই তো আজকে বাংলার মান, সম্মান ধুলুণ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। তিনি এখন চেষ্টা করছেন, আবার ভোটের আগে যদি বেহালার মানুষের মন পাওয়া যায়। কিন্তু লাভের লাভ কিচ্ছু হবে না। তৃণমূল কংগ্রেস যদি তাকে টিকিটও দেয়, তাহলেও তিনি রাজ্যের মধ্যে যে কয়েকটি আসন রয়েছে এবং যেখানে যেখানে তৃণমূল হারবে, তার মধ্যে সবথেকে বেশি মার্জিনে এই পার্থবাবুর পরাজয় হবে। তাই এই সমস্ত লোক দেখানো নাটক নির্লজ্জের মত পার্থ চট্টোপাধ্যায় যত কম করবেন, ততই ভালো বলেই খোঁচা দিচ্ছে বিরোধীরা।

Exit mobile version