প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এবার মহানগরের অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ও কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর, কলকাতা পুরসভা (KMC) এবং কেএমডিএ (KMDA)-র যৌথ উদ্যোগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে বেআইনি বহুতল গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ। তবে এই প্রশাসনিক ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ ঘিরেই এবার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাগযুদ্ধ। এই উচ্ছেদ অভিযান এবং রাজ্যের দীর্ঘদিনের বেআইনি নির্মাণ সংস্কৃতি নিয়ে এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তৃণমূলের আক্রমণের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, “বুলডোজারের রাজনীতি তো আদতে তৃণমূলেরই রাজনীতি”। “বিজেপি কর্মীদের ঘরবাড়ি ভাঙতে জেসিবি কারা ব্যবহার করেছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তা ভুলে গিয়েছেন?”
তিলজলার জি জে খান রোডের যে চামড়া কারখানায় আগুন লেগেছিল, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে সেই বহুতলটির কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান বা অগ্নিসুরক্ষা বিধি ছিল না। ঘটনার পরেই ওই কারখানার দুই মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর ও একবালপুরের মতো এলাকাগুলিতে থাকা সমস্ত অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম বহুতলটি ভাঙার পর, আজ তার পার্শ্ববর্তী আরও একটি বেআইনি G+3 আবাসিক ভবনেও পুরসভার বুলডোজার ও পে-লোডার নামানো হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের এক দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিকাঠামোর ইতিহাস। বিজেপি শিবিরের দাবি, কলকাতা এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় যে সমস্ত বিপজ্জনক এবং বেআইনি কারখানা বা বহুতল গড়ে উঠেছে, তা পূর্বতন ব্যবস্থার উদাসীনতা এবং স্থানীয় সিন্ডিকেটের প্রশ্রয়েই সম্ভব হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অতীতে বিরোধী দলের কর্মীদের কণ্ঠরোধ করতে এবং তাঁদের ঘরবাড়ি ভাঙতে এই জেসিবি বা বুলডোজার কালচারকে একচ্ছত্রভাবে ব্যবহার করা হতো। আজ যখন বেআইনি নির্মাণের কারণে সাধারণ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন দায় এড়াতে তড়িঘড়ি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট অবস্থান— এই ‘বুলডোজার কালচার’ থেকে রাজ্যকে মুক্ত করে যুবকদের কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
শহরের বুকে এই ধরণের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ালেও, সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কেবল একটি ঘটনার পর তড়িঘড়ি বহুতল ভাঙা নয়, বরং শহরের অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত বিপজ্জনক ও বেআইনি নির্মাণের একটি স্থায়ী পরিকাঠামোগত সমাধান খোঁজার দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। বর্তমানে তিলজলার পরিস্থিতি থমথমে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
