প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আসন্ন নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে না হতেই কলকাতার হৃদপিণ্ডে বড়সড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিলোত্তমার যে দুর্গটি বিরোধীদের কাছে ছিল ভরসার জায়গা, সেখানেই সোমবার সন্ধ্যায় ফাটল ধরাল ভারতীয় জনতা পার্টি। মধ্য কলকাতার দাপুটে নেতা তথা ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের আটবারের কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দলবদল কেবল এক কাউন্সিলরের দলত্যাগ নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক কলকাতায় শাসক শিবিরের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার এক পরিকল্পিত ‘মাস্টারস্ট্রোক’।
সোমবার বিকেলে সল্টলেকের বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে পদ্ম পতাকা তুলে নেন সন্তোষ পাঠক। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর দলবদল নিয়ে জল্পনা চললেও তিনি বারবার তা অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁর এই ‘ডিগবাজি’ কার্যত হতভম্ব করে দিয়েছে কলকাতার রাজনৈতিক মহলকে।
সন্তোষ পাঠক এমন একজন হেভিওয়েট নেতা, যাঁর প্রভাব কেবল নিজের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। চৌরঙ্গী ও জোড়াসাঁকো সংলগ্ন বড়বাজার এলাকার হিন্দিভাষী ও ব্যবসায়ী ভোটব্যাঙ্কে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। এই এলাকায় বিরোধী ভোটব্যাঙ্ক মূলত সন্তোষ পাঠকের ব্যক্তিগত ক্যারিশমার ওপর টিকে ছিল। এখন সেই ভোট সরাসরি বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো। সন্তোষ পাঠকের সঙ্গে তাঁর অনুগামীরাও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা কলকাতার বুকে শাসক বিরোধী আন্দোলনকে আরও অক্সিজেন দেবে। কলকাতার খাসতালুকে একজন ‘অপরাজেয়’ জনপ্রতিনিধিকে নিজেদের দিকে টেনে নেওয়া বিজেপির জন্য বড় মনস্তাত্ত্বিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যোগদানের পরই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন এই পোড়খাওয়া রাজনীতিক। তিনি সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের একাধিপত্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কংগ্রেসের নেই। বাংলার মানুষের স্বার্থে এবং দিদিমণির অপশাসন রুখতে আজ বিজেপিই একমাত্র বিকল্প। আমি মানুষের কাজ করতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সন্তোষ পাঠকের এই প্রস্থানে সবথেকে বড় ধাক্কা খেয়েছে কংগ্রেস। তবে সবথেকে বেশি চিন্তায় শাসক শিবির। কারণ, মধ্য কলকাতার এই ওয়ার্ডটি বরাবরই তৃণমূলের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং এলাকা ছিল। এবার সেখানে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধিতে আগামী নির্বাচনে ফলাফল কোন দিকে যায়, তা নিয়ে কালীঘাটের অন্দরেও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
তিলোত্তমার বুকে এই দলবদল কি কেবল হিমশৈলের চূড়া? রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, সন্তোষ পাঠকের পথ ধরে কলকাতার আরও কোনো হেভিওয়েট কি এবার গেরুয়া বসন ধারণ করবেন? আপাতত এই বড়সড় ধসের পর কলকাতার নির্বাচনী লড়াই যে আরও কঠিন হয়ে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।
