প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-লোকসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলত্যাগী ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের পদ থাকবে নাকি খারিজ হবে—তা নিয়ে চলা চরম আইনি লড়াইয়ে এলো এক বড় আপডেট। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের নোটিশের উত্তর দেওয়ার জন্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের আবেদন মেনে তাঁদের আরও ৩ সপ্তাহ বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে।লোকসভা সচিবালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি সন্তোষ কুমার কর্তৃক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিদ্রোহী সাংসদদের করা আবেদনের ভিত্তিতে স্পিকার তাঁদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জবাব পেশ করার অনুমতি দিয়েছেন।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—”গত ১৮ জুন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা দলত্যাগ বিরোধী আইনের দশম তফশিলের পিটিশনের জবাব দেওয়ার জন্য ১ সেপ্টেম্বর আপনার করা ৩ সপ্তাহের সময় বাড়ানোর আবেদনটি মাননীয় স্পিকার মঞ্জুর করেছেন এবং আপনাকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হলো।”
গত জুন মাসে তৃণমূলের অন্দরে তীব্র ডামাডোলের জেরে লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। স্পিকারের কাছে গিয়ে তাঁরা আলাদা বসার আসনও দাবি করেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র সাথে একীভূত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এই দলবদলকে ‘অবৈধ’ দাবি করে স্পিকারের কাছে তাঁদের সাংসদপদ খারিজের আবেদন জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি স্পিকার এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না অভিযোগ তুলে তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়। এরপরই গত ২৬ আগস্ট লোকসভা সচিবালয় থেকে এই ২০ সাংসদকে নোটিশ পাঠিয়ে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সুদীপ বাবুরা অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই বাড়তি ৩ সপ্তাহের সময় মঞ্জুর করলেন। আপাতত ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পদ খারিজের আইনি খাঁড়া থেকে এই ২০ জন সাংসদ স্বস্তি পেলেও, নির্ধারিত সময়ের পর দিল্লির এই সংসদীয় লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।
