Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘তৃণমূলই আসছে, দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে জিতব!’ ভোট দিয়ে বেরিয়েই বড় ঘোষণা মমতার, কাকে দিলেন কড়া চ্যালেঞ্জ?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের সামনে আজ যেন এক রাজনৈতিক ঝড়ের আভাস পাওয়া গেল। বুধবার বিকেলে নিজের বুথে ভোট দিতে এসে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মেজাজে ধরা দিলেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ভোট দিয়ে বেরিয়েই আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি জানিয়ে দিলেন, ফল যাই হোক—বাংলায় ফের তৃণমূল কংগ্রেসই ক্ষমতায় আসছে।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির অভিযোগ এলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দিহান নন। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমি জীবনে এমন পরিস্থিতি দেখিনি, তা সত্ত্বেও বলছি তৃণমূলই জিতবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরাই ফিরছি”।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দলের কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের সমর্থন এবং উন্নয়নের নিরিখেই তাঁদের এই জয় নিশ্চিত। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষ নানাভাবে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও ব্যালট বক্সে বা ইভিএমে মানুষ তৃণমূলের পক্ষেই রায় দিয়েছেন।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে কেবল জয়ের কথা ছিল না, ছিল তীব্র যন্ত্রণার অভিযোগও। তিনি অভিযোগ করেন: অবাধ ভোটের নামে দিনভর সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে।
তৃণমূলের এজেন্টদের মারধর করে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মহিলা এবং শিশুরাও এই অশান্তির হাত থেকে রেহাই পায়নি বলে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে পরোক্ষ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “ইজ় ইট ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন?”

উল্লেখ্য, গত বিধানসভা বা পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ জয়ের রেকর্ড রয়েছে। ২০২১ সালে তৃণমূল ২১১টি আসন পেয়েছিল, যা মোট আসনের প্রায় ৭০ শতাংশ। এবারও সেই ধারা বজায় থাকবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসী। তবে বিরোধীরা এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ভোটের ময়দানে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চললেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ভবিষ্যৎবাণী’ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন দেখার, গণনার দিন তাঁর এই আত্মবিশ্বাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়।

Exit mobile version