প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দ থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার খোদ কলকাতা পুরসভাতেও (KMC) অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নবান্ন হাতছাড়া হওয়ার পর দল যে কতটা দিশাহীন এবং তাদের অভ্যন্তরীণ কাঠামো যে কতটা নড়বড়ে, তা আজ আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। কলকাতার বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা এবং দলের অন্দরের স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে আজ নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ (MIC) তথা বর্ষীয়ান নেতা তারক সিং তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ আসলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া একটি রাজনৈতিক দলের শেষলগ্নের আনুষ্ঠানিক সূচনা মাত্র।
বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর তৃণমূলের রাজনৈতিক জমি বাংলায় এমনিতেই শেষ। এবার কলকাতার মতো শক্তিশালী দুর্গেও এই ভাঙন প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলের আদি ও নিষ্ঠাবান কর্মীরাও আর এই ব্যর্থ বোর্ডের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। পদত্যাগের পর তারক সিং সরাসরি বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ গোটা পুরবোর্ডের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কলকাতার মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে এই অযোগ্য পুরবোর্ডের অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া উচিত। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশকে যে দলের অন্দরেই আর কেউ পাত্তা দিচ্ছেন না, তার বড় প্রমাণ তারক সিংয়ের কালীঘাটের জরুরি বৈঠক বয়কট করা।
এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, “যে দল জনরোষে রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তাদের কলকাতা পুরবোর্ড চালানো সম্পূর্ণ অনৈতিক। কলকাতার মানুষকে জলযন্ত্রণা ও দুর্ভোগ থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে এই ব্যর্থ পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন করা উচিত।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই কলকাতার সাধারণ মানুষ এই দুর্নীতিগ্রস্ত পুরবোর্ডের পরিবর্তন চাইছিলেন। তারক সিংয়ের মতো একজন হেভিওয়েট ও প্রবীণ নেতার এই সাহসী পদক্ষেপ আসলে কলকাতার বঞ্চিত ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে থাকা বিদায়ী শাসকের এই ঔদ্ধত্য আর বেশিদিন টিকবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
