প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্যের আনাচে-কানাচে যখন থরে থরে সাজানো দুর্নীতির পাহাড় আর তৃণমূলের ডাকসাইটে নেতারা যখন একে একে শ্রীঘরে ছিলেন, ঠিক তখনই নজর ঘোরাতে মরিয়া হয়ে উঠলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবারের জনসভা থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অত্যন্ত নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির পাকে নিমজ্জিত তৃণমূল এখন এতটাই দিশেহারা যে, দেশের সর্বোচ্চ শাসন কর্তাদের দিকে আঙুল তুলেই নিজেদের ‘সততার ভাবমূর্তি’ বাঁচাতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।
এদিন জনসভার স্টেজ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপি সরকার নাকি ‘স্বৈরাচারী’ এবং ‘বজ্জাত’। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সাধারণ মানুষকে ‘লাইনে দাঁড় করিয়ে’ হেনস্থা করছে আর নিজেরা ‘লুটেপুটে’ খাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, বাংলায় রেশন থেকে শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই যে হরিলুট চলেছে, তার দায় কার? যে দলের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে দাপুটে নেতারা কোটি কোটি টাকার তছরুপের দায়ে জেলবন্দি ছিলেন, সেই দলের নেত্রীর মুখে ‘লুটেপুটে খাওয়া’র অভিযোগ শুনে এখন রাজনৈতিক মহলে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, প্রথম চার্জশিট হওয়া উচিত মোদী এবং অমিত শাহর বিরুদ্ধে। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের পাল্টা তোপ—যাঁদের শাসনে বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসায় শয়ে শয়ে বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন, ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, সেই ‘রক্তস্নাত’ রাজনীতির কারিগরদের মুখে কি চার্জশিটের কথা মানায়? কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই যেভাবে তৃণমূলের দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে ফেলছে, তাতেই কি মেজাজ হারিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী?
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মোদী সরকার যখন দেশকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিচ্ছে, তখন বাংলায় চলছে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ আর ‘কাটমানি কালচার’। মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘বজ্জাত’ বা ‘স্বৈরাচারী’ বিশেষণ আসলে তাঁর নিজের প্রশাসনের আয়না। বাংলায় গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করে এখন দিল্লিতে গণতন্ত্র রক্ষার জ্ঞান দেওয়া কি ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ নয়?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইডির তলব আর সিবিআই-এর চার্জশিট যত তৃণমূলের অন্দরমহলের দিকে এগোচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলার স্বর ততই তীব্র হচ্ছে। জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরণের বেলাগাম মন্তব্য আসলে তাঁর রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষ এখন বুঝছেন, আসল ‘অনাচার’ আর ‘অত্যাচার’ কোথায় হচ্ছে এবং কাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
