Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তৃণমূলের ইফতারি ফাঁদ? ৭ জওয়ানকে বাংলা থেকে খেদাল কমিশন!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পরেই রাজ্যে মোতায়েন হওয়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। মুর্শিদাবাদে কর্তব্যরত অবস্থায় স্থানীয় প্রভাবশালী শাসক দলের নেতাদের আমন্ত্রণে ইফতার পার্টিতে অংশ নেওয়ায় কড়া শাস্তির মুখে পড়লেন সাতজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) জওয়ান। বিধিভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে ভিন রাজ্যে বদলি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত নিমতিতা এলাকায়। সেখানে বুথ পাহারার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর একদল জওয়ান স্থানীয় এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের আমন্ত্রণে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তোলপাড়। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ডিউটি চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা কোনো স্থানীয় ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের আতিথেয়তা, উপহার বা খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন না। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে জওয়ানদের এই ধরনের মেলামেশা সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থার অভাব তৈরি করতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন।

বিষয়টি জানাজানি হতেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্ত সাতজন জওয়ানকে অবিলম্বে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কমিশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত ৩ জন জওয়ানকে ৭ দিনের জন্য ‘কোয়ার্টার গার্ড’ বা বিভাগীয় (প্যারা-মিলিটারি) হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ জনের মধ্যে ২ জনকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং অন্য ২ জনের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এই সাতজন জওয়ানকেই এরাজ্যের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে পাকাপাকিভাবে সরিয়ে ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর মানুষের পূর্ণ ভরসা থাকা একান্ত প্রয়োজন। অতীতে রাজ্যে একাধিক নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী দলগুলি। অভিযোগ উঠেছিল, শাসক দলের নেতাদের সাথে সৌজন্যের আড়ালে বাহিনীর সুসম্পর্ক তৈরি হলে তা বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তাই এবার জওয়ানদের গতিবিধি নজরদারি করতে GPS ট্র্যাকিং এবং বডি ক্যামেরার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কমিশনের এই কঠোর অবস্থান বুঝিয়ে দিল যে, কোনো প্রলোভন বা ‘সৌজন্যের’ দোহাই দিয়ে বাহিনীর নিরপেক্ষতা নষ্ট করা যাবে না।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবির বিজেপির দাবি, “তৃণমূল জানে যে জওয়ানরা নিরপেক্ষ থাকলে বুথ দখল সম্ভব নয়, তাই কখনও ভয় দেখিয়ে আবার কখনও সৌজন্যের ফাঁদ পেতে তাঁদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।” তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, এটি একটি ধর্মীয় ও সৌজন্যমূলক অনুষ্ঠান ছিল এবং এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।

মুর্শিদাবাদের এই ঘটনা রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে মোতায়েন থাকা জওয়ানদের জন্যও এক বড় সতর্কবার্তা। কমিশন প্রমাণ করে দিল যে, নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করলে রেহাই পাবেন না খোদ রক্ষকরাও। বাংলার সাধারণ মানুষ যাতে ভয়হীনভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক ছোঁয়া’ মুক্ত রাখাই এখন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। নিমতিতার এই কড়া পদক্ষেপ সেই লড়াইয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

Exit mobile version