প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বাজতেই বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ কি আমূল বদলে যেতে চলেছে? পিসি-ভাইপোর সাজানো বাগানে কি এবার আক্ষরিক অর্থেই ‘কাঁটা’ হয়ে বিঁধতে চলেছে মিম-হুমায়ুন জুটি? আজ, ১ এপ্রিল, মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি। অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ইতিমধ্যে কলকাতায় পা রেখেছেন। আর আজই তিনি মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা তথা ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে প্রথমবার একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দেবেন।
ওয়াইসির এই সফর হঠাৎ করে নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। গত ২৫ মার্চ কলকাতায় এসে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেরেছিলেন মিম প্রধান। সেই বৈঠকের পরই আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ঘোষণা করেন। সেদিনই আসাদউদ্দিন ওয়াইসি স্পষ্ট ভাষায় কথা দিয়েছিলেন, তিনি খুব শীঘ্রই আবার বাংলায় ফিরবেন এবং বড় মাপের জনসভা করে তৃণমূলের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ রাজনীতির মুখোশ খুলে দেবেন। নিজের দেওয়া সেই কথা রাখতেই আজ তিনি মুর্শিদাবাদের মাটিতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত সপ্তাহের সেই সাংবাদিক বৈঠক থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, বাংলার সংখ্যালঘু ভোটে এবার বড়সড় ধস নামতে চলেছে।
এতদিন তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে আসত যে, সংখ্যালঘু ভোট তাদের ‘নিশ্চিত আমানত’। কিন্তু ওয়াইসি এবং হুমায়ুন কবীরের এই যুগলবন্দি সেই ধারণায় সপাটে চড় মারতে চলেছে। কলকাতায় পা রেখেই ওয়াইসি কড়া বার্তা দিয়েছেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মুসলিম সমাজকে কেবল ‘ভোট দেওয়ার মেশিন’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। শিক্ষা, চাকরি কিংবা সামাজিক উন্নয়নে তাঁদের কার্যত অন্ধকারে রাখা হয়েছে। হুমায়ুন কবীরও সুর চড়িয়ে জানিয়েছেন, “তৃণমূল এখন একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, যেখানে যোগ্যদের কোনও জায়গা নেই।” আজ বহরমপুরের সভা থেকে এই দুই নেতা শাসকদলের বিরুদ্ধে কোন ‘বিস্ফোরক’ তথ্য সামনে আনেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
মুর্শিদাবাদ জেলা বরাবরই তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আজ বহরমপুরের এই মেগা শোর মাধ্যমে সেই মিথ ভেঙে দিতে চাইছেন ওয়াইসি ও কবীর জুটি। এই জোট ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, তারা রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রায় ১৮০ থেকে ১৯০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং বীরভূমের মত মুসলিম প্রধান জেলাগুলিই তাদের মূল লক্ষ্য। এই আসনগুলিতে তৃণমূলের নিশ্চিত জয়কে আটকে দেওয়াই মিম-হুমায়ুন জোটের প্রধান রণকৌশল। ফলে স্বভাবতই নবান্নের অলিন্দে এখন আতঙ্কের ছায়া।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জোটের ফলে সংখ্যালঘু ভোট আড়াআড়ি বিভাজিত হবে। যে ভোট আগে একতরফাভাবে ঘাসফুল শিবিরে যেত, তার একটি বড় অংশ এখন মিম এবং হুমায়ুন কবীরের ঝুলিতে যাবে। এই ভোট কাটাকাটির খেলায় সরাসরি সুবিধা পাবে বিজেপি। হিন্দু ভোটের একীকরণ এবং সংখ্যালঘু ভোটের এই ভাঙন ২০২৬-এ বাংলার মসনদে বড় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করতে পারে। বিজেপি-ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তৃণমূলের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে আজ থেকেই।
