প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
লোকসভায় দাঁড়িয়ে গতকাল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। লোকসভায় ‘অর্থ বিল’ সংক্রান্ত আলোচনার জবাবি ভাষণে তিনি তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথাকথিত ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ আসলে নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি ঢাকার একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থমন্ত্রীর আজকের বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের ক্রমাবনতি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৪৭ সালে ভারতের মোট শিল্প জিডিপিতে বাংলার অবদান ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। বর্তমানে সেই গৌরবের ইতিহাস ধুলোয় মিশে তা ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, “পশ্চিমবঙ্গে এখন শুধু সিন্ডিকেট রাজ চলে। কাটমানি আর তোলবাজি সংস্কৃতির জন্য গত ১৪ বছরে প্রায় ৭,০০০ কোম্পানি রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।” এই তথ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তৃণমূলের আমলে শিল্প পরিকাঠামোর মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্র টাকা বরাদ্দ করলেও রাজ্য সরকার তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য মোদী সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’ পাঁচ বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে। এর ফলে সরাসরি ৩ লক্ষ ৭৯ হাজার চা শ্রমিক কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনরোষ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর না করায় গরিব মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না— এই তথ্য দিয়ে তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন।
তৃণমূলের ‘টাকা আটকে রাখা’র অভিযোগের পাল্টা জবাবে সীতারমণ সাফ জানান, স্বচ্ছতা এবং সঠিক অডিট রিপোর্ট না দিলে কেন্দ্রীয় তহবিলের অপচয় হতে দেবে না মোদী সরকার। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে প্রায় ২৫ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড বানিয়ে ১০০ দিনের কাজের টাকা তছরুপ করা হয়েছে। এছাড়া পিএম আবাস যোজনায় অযোগ্যদের ঘর দেওয়ার মতো দুর্নীতির তথ্যও তিনি পেশ করেন।
আজকের ভাষণে নির্মলা সীতারমণ শুধু অভিযোগ করেননি, বরং তথ্য দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অর্থনৈতিক ও শিল্প সংকটের মূলে রয়েছে তৃণমূলের ‘পলিসি প্যারালাইসিস’ এবং ‘দুর্নীতি’।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্য রাজ্যের আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিজেপিকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার দিল।
