Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“তৃণমূলের উন্নয়ন কেবলই বিজ্ঞাপনে, বাস্তবের ছবিটা ভয়াবহ”: বাংলা সফরে এসে মমতাকে তীব্র আক্রমণ ওয়েইসির!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার অনেক আগে থেকেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে মেরুকরণের সমীকরণ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তবে এবারের লড়াই যে কেবল দ্বিমুখী নয়, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। বাংলায় এসে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি। তাঁর সাফ দাবি, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকলেও এ রাজ্যের সংখ্যালঘুদের অবস্থার বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়নি, বরং ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে তাঁদের ব্যবহার করা হয়েছে।

ওয়েইসি এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানান, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “এই রাজ্যে মুসলিমদের সার্বিক অবস্থা ভালো নয়। বছরের পর বছর তাঁদের কেবল স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তব চিত্রটা অন্ধকার।” তাঁর মতে, উত্তরপ্রদেশ বা অন্যান্য রাজ্যের মুসলিমদের দুর্দশা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হলেও, নিজের রাজ্যের ঘরের খবর তিনি রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ওয়েইসি বলেন, রাজ্যে এক অদ্ভুত ‘নতুন কাস্ট সিস্টেম’ বা বর্ণপ্রথা চালু হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানে মুসলিমদের উপস্থিতির হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, এ রাজ্যে সরকারি চাকরিতে মুসলিমদের ভাগীদারী মাত্র ৭ শতাংশ। এই বৈষম্য কেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি শাসকদলের ‘সংখ্যালঘু দরদী’ ভাবমূর্তিকে কার্যত নস্যাৎ করে দেন।

কেবল চাকরি বা শিক্ষা নয়, প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকার নিয়েও সরব হন ওয়েইসি। মালদা ও মুর্শিদাবাদের মত মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ওই সব এলাকায় পানীয় জলে আর্সেনিকের মাত্রা ভয়ানক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তৃণমূল আমাদের ভোট নিয়েছে, কিন্তু বদলে কী দিয়েছে? যেখানে মানুষ পরিশ্রুত পানীয় জল পায় না, সেখানে কিসের উন্নয়ন?”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বাবরি মসজিদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তিনি বরাবরই মুসলিমদের সার্বিক ও কাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলে এসেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে এসেছি। আমরা ভালো করার চেষ্টা করব।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, ওয়েইসির এই আক্রমণ সরাসরি তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে পারে। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরছে, সেখানে ওয়েইসির এই ‘উন্নয়ন বনাম বঞ্চনা’র কার্ড শাসকদলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন দেখার, তৃণমূল শিবির এই আক্রমণের পাল্টা কী জবাব দেয়।

Exit mobile version