প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যতই মুখে বলুক, তারা এবারও ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু তারা নিজেরাও জানে যে, কতটা চাপ রয়েছে এবার তাদের পক্ষে। আর সেই কারণে যখন মানুষ সমর্থন পাবে না বুঝে যায়, তখন মানুষ বিরক্তির জেরে একের পর এক ভুল পদক্ষেপ বা ভুল ভাল মন্তব্য করতে শুরু করে। বর্তমানে তৃণমূলের নেতা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদের অবস্থাও ঠিক তেমনটাই হয়েছে। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেও যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজনৈতিক চালে অত্যন্ত ভীত, তা তার বিভিন্ন সময় অমিত শাহকে বেলাগাম মন্তব্যের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যায়। আর এবার রাত পোহালেই যখন রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তখন তাকে বর্ষার ব্যাঙ বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। যিনি বাংলার লোক নন, যার সঙ্গে বাংলার সংস্কৃতির কোনো পরিচয় নেই, সেই রকম একটি মানুষকে তৃণমূল কংগ্রেস টিকিট দিয়েছিল। কিন্তু তিনি জয়লাভ করার পর এবার যে দলকে তৃণমূল নেত্রী বাংলা বিরোধী বলে দাবি করে, সেই বিজেপির সর্বভারতীয় চাণক্য তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এইরকম আক্রমণ করে কি খুব বাংলা প্রীতির পরিচয় দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাংসদ?
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কথায় কথায় বলেন, বিজেপি বাংলা বিরোধী। বলেন, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি জানে না। কিন্তু তিনি এই পশ্চিমবঙ্গে কোন সংস্কৃতি বহন করে আনছেন? সেই প্রশ্ন পাল্টা উঠতে শুরু করেছে। কারণ এই বাংলায় বাংলার লোকেদের অনেক আসনে প্রার্থী না করে বহিরাগতদের প্রার্থী করা হয়েছে। যার মধ্যে শত্রুঘ্ন সিনহা যেমন রয়েছেন, ঠিক তেমনই রয়েছেন কীর্তি আজাদ, ইউসুফ পাঠানের মত লোক। আর যারা বাংলার মানুষ নয়, সেই দল তৃণমূল কংগ্রেস মুখে বাংলা প্রেমের কথা বলে, কাজে কেন বাংলার লোকেদের প্রার্থী না করে বহিরাগতদের প্রার্থী করছে? তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। আর সেসবের মধ্যেই এবার সেই কীর্তি আজাদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফরের আগের দিন তাকে বর্ষার ব্যাঙ বলে আক্রমণ করলেন। আর তৃণমূল সাংসদের মুখের এই ভাষা নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে বিজেপি।
সূত্রের খবর, আগামীকালই রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যেখানে মায়াপুরে একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। আর অমিত শাহ যে তৃণমূলের কাছে কতটা ভয়ের কারণ, তা আবার বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। তিনি অমিত শাহকে বর্ষার ব্যাঙ বলে কটাক্ষ করলেন। আর তার পাল্টা বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, কীর্তি আজাদের জনপ্রিয়তা বলতে কিছু নেই। তিনি বুঝতে পেরেছেন, তারা মানুষের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তাই যেভাবেই হোক, কুকথার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করে নিজেরাই আরও মানুষের কাছে হাসির পাত্র হয়ে উঠছেন। ভারতবর্ষের গৃহমন্ত্রীকে এইভাবে অপমানের জবাব আগামী দিনে তৃণমূলকে মানুষ দেবে বলেই দাবি গেরুয়া শিবিরের।
