প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-খেল খতম, পয়সা হজম! রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে যখন একবার ভাঙন ধরে, তখন তাসের ঘরের মতো কীভাবে একটা গোটা দল ধূলিসাৎ হয়ে যায়, আজ বাংলা তার জলজ্যান্ত সাক্ষী। একদিকে বাগী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলের আস্ত একটা বড় অংশ ভেঙে বেরিয়ে গেছে। স্পিকার সেই বাগী গোষ্ঠীকে স্বীকৃতিও দিয়ে দিয়েছেন। আর এই মহা-সংকটের আবহে জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢাললেন আর এক হেভিওয়েট, নিজের নবগঠিত ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রধান হুমায়ুন কবীর। বুক ঠুকে আজ প্রশ্ন করার সময় এসেছে— “কী দেখছেন আপনি? ঋতব্রতরা যখন তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতছেন, তখন হুমায়ুন কি প্রাক্তন নেত্রীকে করুণার অক্সিজেন জোগাচ্ছেন? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো সূক্ষ্ম রাজনৈতিক চাল?”
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের অন্দরে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছেন, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের দল এখন আক্ষরিক অর্থেই দু’টুকরো। ৫৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে ঋতব্রত যখন বিধানসভায় আলাদা বাগী গোষ্ঠী তৈরি করে ফেলেছেন, তখন তৃণমূল এখন ক্ষমতার অলিন্দ থেকে ছিটকে গিয়ে পুরোপুরি খাদের কিনারায়। শাসক দল তো বরাবরই বলে আসছিল, একনায়কতন্ত্রের চোটে এই দলটা টিকবে না। আজ ঋতব্রতরা সেটাই প্রমাণ করে দিলেন। দলটা এখন এতটাই অভিভাবকহীন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঁচানোর মতো লোকও তাদের নিজেদের ঘরে আর অবশিষ্ট নেই! ঠিক এই পরিস্থিতির ফায়দা তুলে আজ ময়দানে নামলেন হুমায়ুন কবীর। একদিকে ঋতব্রতরা মমতাকে দল ভাঙার ধাক্কা দিচ্ছেন, আর অন্যদিকে হুমায়ুন পরম করুণাময়ের মতো হাত বাড়িয়ে বলছেন, “নেত্রী যদি চান, তবে আমি ওনাকে রেজিনগর থেকে জিতিয়ে বিধানসভায় ঢোকার ব্যবস্থা করে দেব”।
ভাবুন একবার! যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় গোটা রাজ্যের ভাগ্যবিধাতা ছিলেন, আজ দল ভাঙার পর বিধানসভায় একটা সিট পাওয়ার জন্য তাঁকে নাকি হুমায়ুন কবীরের দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। একেই বলে সময়ের চাকা ঘুরে যাওয়া! হুমায়ুন আসলে ‘গুরু-দক্ষিণা’র নাম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত দেউলিয়া প্রমাণ করে দিলেন।হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট ভাষায় ঋতব্রতর এই বিদ্রোহের জন্য খোদ মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুল নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের এই পতন অনিবার্য ছিল। আর সেই কারণেই তিনি বুক ঠুকে বলছেন, রেজিনগরে তৃণমূল বা কেউ নয়, হুমায়ুন কবীরই শেষ কথা। তিনি কার্যত বার্তা দিলেন, বাংলায় এখন তৃণমূল নামক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। এখন রাজত্ব শুধু আঞ্চলিক ‘কিংমেকার’দের, যারা চাইলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও বিধানসভার চৌকাঠ পার করাতে পারে, আবার চাইলে রাজনীতি থেকে মুছেও দিতে পারে।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহল বিষয়টিকে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলটা যখন আড়াআড়ি দুই ভাগ হয়ে গেছে, তখন তৃণমূলের আর ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো রাস্তাই খোলা নেই। একদিকে ঋতব্রতর বিদ্রোহে ঘর ভাঙা, অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের মতো প্রাক্তন সতীর্থদের কাছ থেকে ‘জেতানোর অফার’ বা করুণা নেওয়া— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কিছু হতে পারে না। কালীঘাটের রানী কি তবে সত্যিই এখন নিঃস্ব? ঋতব্রতর ধাক্কা সামলাবেন, নাকি হুমায়ুনের দেওয়া এই করুণার ‘গুরু-দক্ষিণা’ গ্রহণ করবেন? জনগণ কিন্তু চোখ কান খোলা রাখছেন।
