প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন তোলপাড়! সুদীর্ঘ ২৮ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়েছে তাঁরই তৈরি দলের নাম ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং চিরপরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক। জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) কর্তৃক তৃণমূলের নাম ও প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা স্থগিত করার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর, এবার সরাসরি ঈশ্বরের বিচার টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।আজ (শুক্রবার) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের এই চরম বিপর্যয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার দায় সম্পূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘাড়েই চাপিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “আমার আর এই নিয়ে বলার কিছু নেই। এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। নির্বাচন কমিশন নিজের নিয়ম মেনে, সব পক্ষের কথা শুনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উনি নিজের দলকে একজোট রাখতে পারেননি। দলের মধ্যে দুই ভাগ, তিন ভাগ, চার ভাগ হয়েছে! এর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ ওঁর। এটার সঙ্গে বিজেপির কোনও সরাসরি ভূমিকা নেই।”
এরপরই সুর আরও চড়িয়ে সনাতন ধর্ম এবং রামায়ণের উপমা টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে চরম কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন: “আমি নির্বাচনের দিন গণনার রাতেই হলদিয়াতে বলেছিলাম, আর যেই থাকুক, এনারা থাকবেন না। তার কারণ অতি দর্পে হত লঙ্কা। দম্ভ যার হবে, সেই দম্ভেই সে চূর্ণ হবে! ভগবান পুরুষোত্তম মহারাজ রামচন্দ্রের অভিশাপেই সব ধ্বংস হয়ে গেছে। দম্ভ যার হবে চূর্ণ করবে ভগবান, কারণ সর্বশক্তিমান আছেন।”
আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন। তার ঠিক আগেই ‘কালীঘাট বনাম ঋতব্রত’ দুই শিবিরের তীব্র দ্বন্দ্বের জেরে জোড়াফুল প্রতীকটি ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় কার্যত মহাসংকটে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দুই পক্ষকে আলাদা নাম ও বিকল্প প্রতীক জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জানা গেছে, মমতা শিবির ফুটবল খেলছে এমন ছবি বা ক্রিকেট ব্যাট প্রতীকের আবেদন জানিয়েছে, অন্যদিকে বিদ্রোহী ঋতব্রত শিবির খাম বা মশালের মতো চিহ্নের দাবি তুলেছে। তবে ভোটের ঠিক মুখে এই প্রতীক বদল আমজনতার রায়ে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
