Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ ফ্রিজ, অস্তিত্বের সংকটে পিসি! চরম দুর্দিনে পাশে নেই ভাইপো, আমেরিকার বিলাসবহুল হাসপাতালে বসেই কি ইতি অভিষেকের নেতৃত্বের?

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ বছরের ইতিহাসে এত বড় বিপর্যয় এর আগে কখনও আসেনি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এক ধাক্কায় ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে দলের নাম এবং সুপরিচিত ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক। যে রাজনৈতিক দল একসময় গোটা বাংলা শাসন করত, নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে আজ তার আইডেন্টিটি বা পরিচয়ই স্তব্ধ। কিন্তু এই অভূতপূর্ব ও চরম অস্তিত্বের সংকটের মুহূর্তে যেখানে দলের প্রধান সেনাপতির পিসি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে লড়াই করার কথা ছিল, সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো ছবি রাজ্য রাজনীতিতে। সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ অনুমতি নিয়ে চোখের চিকিৎসার নাম করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।আইনত চিকিৎসা করানোর অধিকার তাঁর থাকলেও, এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংকটের সময়ে বিদেশ থেকে তাঁর সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা এবং কোনও প্রকার রাজনৈতিক তৎপরতা না থাকা তৃণমূলের অন্দরে ও বাইরে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে—বিপদের দিনে যিনি পিসি এবং দলের পাশে থাকতে পারেন না, আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্ব কেন এবং কে মেনে নেবে?

তৃণমূলের অন্দরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে আইনি ও সাংগঠনিক লড়াইয়ের জেরে নির্বাচন কমিশন ঘাসফুল প্রতীকটিই উপড়ে ফেলেছে। বাধ্য হয়ে আসন্ন উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লড়াই করতে হচ্ছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং তাঁর নতুন প্রতীক হয়েছে ‘ফুটবল প্লেয়ার’।দলের নিচুতলার কর্মীরা যখন নিজেদের চেনা প্রতীক হারিয়ে বিভ্রান্ত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সুপ্রিম কোর্টের দরজায় দরজায় ঘুরছেন প্রতীক ফিরে পাওয়ার আশায়, ঠিক তখন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল হাসপাতালে বসে দিন কাটাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়া হোক কিংবা সাংগঠনিক নির্দেশ—এই মহাবিপদের দিনে তাঁর তরফ থেকে কোনও রকম জোরালো তৎপরতা বা পিসির পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করার সদিচ্ছা দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ স্পষ্ট বলছে, দল যখন লাইফ সাপোর্টে, তখন সেনাপতির এই মৌনতা আসলে এক প্রকার ‘রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ’।

বিরোধী দলগুলি বরাবরই তৃণমূল কংগ্রেসকে কোনো গণতান্ত্রিক দল না বলে “পিসি-ভাইপোর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি” বলে কটাক্ষ করে এসেছে। আজ সেই অভিযোগই সাধারণ মানুষ এবং তৃণমূলের ক্ষুব্ধ নিচুতলার কর্মীদের চোখে ১০০ শতাংশ খাঁটি বলে প্রমাণিত হচ্ছে। তৃণমূলের এক বিক্ষুব্ধ নেতার কথায়, “কোম্পানিতে যখন লাভ আসছিল, কর্পোরেট স্টাইলে আই-প্যাক (I-PAC) দিয়ে দল চালানো হচ্ছিল, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাপট ছিল ক্যামাক স্ট্রিটে। কিন্তু কোম্পানি যখন লোকসানে চলেছে, নাম ও প্রতীকই যখন দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে, তখন ডিরেক্টর সাহেব গা ঢাকা দিয়েছেন।” সংকটকালে কর্মীদের ময়দানে ফেলে রেখে শীর্ষ নেতার এই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা প্রমাণ করে যে, এই দল কোনও আদর্শের ভিত্তিতে তৈরি হয়নি, বরং তা ছিল একটি ক্ষমতার আখের গোছানোর কোম্পানি।

রাজনীতির ময়দান অত্যন্ত নিষ্ঠুর। ভারতে বা বাংলায় যে নেতাই সংকটের সময়ে কর্মীদের একা ফেলে বিদেশ যাত্রা করেছেন বা নিষ্ক্রিয় থেকেছেন, লড়াকু জনতা তাঁকে ছুড়ে ফেলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৈরি করেছিলেন রাজপথে বামফ্রন্টের লাঠি-গুলি হজম করে, নিজের রক্ত দিয়ে। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই তৈরি মঞ্চে এসে বসেছিলেন। আজ যখন দলের প্রতীক রক্ষার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা লড়াই করছেন, তখন অভিষেকের এই অনুপস্থিতি দলের ভেতরে তাঁর নেতৃত্বকে পুরোপুরি গুরুত্বহীন করে দিয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা ইতিমধ্যেই দাবি তুলেছেন যে, বাংলার মানুষের সঙ্গে অভিষেকের কোনও সংযোগ নেই। চিকিৎসা শেষে তিনি যখন আমেরিকায় বিলাসবহুল জীবন কাটিয়ে বাংলায় ফিরবেন, তখন সাধারণ কর্মীরা তাঁকে নেতা হিসেবে মেনে নেবে তো? নাকি ততদিনে পিসির তৈরি দলটির কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতা হয়ে যাবে—তা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

Exit mobile version