প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এবার এক নজিরবিহীন ও চরম নাটকীয় মোড়! বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরবারে শুরু হলো চূড়ান্ত টানাপোড়েন। আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নতুন দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে মুখোমুখি হাজির হয়েছিল ঘাসফুল শিবিরের যুযুধান দুই পক্ষ। কমিশন সূত্রে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর খবর, আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে এই প্রতীক বিতর্ক নিয়ে কোনও চূড়ান্ত ফয়সালার সম্ভাবনা একপ্রকার নেই বললেই চলে। আর ঠিক এই কারণেই দুই শিবিরেই এখন তীব্র উৎকণ্ঠা।
আজ দিল্লির নির্বাচন সদনে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথকভাবে দুটি শিবিরের ৫ জন করে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ঘড়ির কাঁটা মেনে ঠিক সকাল ১১টায় প্রথমে কমিশনের ঘরে ঢোকেন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর প্রতিনিধিরা। সেখানে নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে একাধিক নথিপত্র পেশ করেন তাঁরা। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর, দুপুর ১২টায় কমিশনের মুখোমুখি হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েনদের এই দল স্পষ্ট জানায়, মমতাদির তৈরি দল অন্য কারও হতে পারে না।
যে জোড়াফুল প্রতীকটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হাতে এঁকে তৈরি করেছিলেন, সেই প্রতীকই এবার হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, যেহেতু ১৬ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং এত কম সময়ের মধ্যে কার দিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তা যাচাই করা সম্ভব নয়, তাই নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ (Interim Order) জারি করতে পারে।এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের জেরে আপাতত ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করে দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, আসন্ন উপনির্বাচনে কোনো পক্ষই এই পরিচিত প্রতীক ব্যবহার করে ভোট লড়তে পারবে না।
মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি-র ফর্মুলা মেনে এবার বাংলাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, উপনির্বাচনের বৈতরণী পার করতে দুই পক্ষকেই সম্পূর্ণ অস্থায়ী নাম এবং নতুন আলাদা আলাদা প্রতীক চিহ্ন বরাদ্দ করতে পারে কমিশন। দুই শিবিরের কাছ থেকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের তালিকা চেয়ে নেওয়া হতে পারে। ফলে আমজনতা এবার ইভিএম মেশিনে চিরপরিচিত জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই তৃণমূলের দুই পক্ষকে ভোট দেওয়ার নজিরবিহীন সাক্ষী হতে চলেছে। বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ঋতব্রত তৃণমূলকে সম্পত্তি মনে করে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বেচে দিয়েছেন, ও তো বিজেপির দালাল”। পাল্টাপাল্টি আইনি লড়াইয়ের পর এই প্রতীক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট অবধি গড়ায় কিনা, এখন সেটাই দেখার।
