Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন! ‘ইউজ অ্যান্ড থ্রো’ রাজনীতির অভিযোগ তুলে কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাদুড়িয়ার হেভিওয়েট বিধায়ক!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে শাসকদলের অন্দরের ডামাডোল। এবার সেই অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তৃণমূল ছাড়লেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার হেভিওয়েট নেতা তথা বিদায়ী বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম ওরফে দিলু। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনি পুরনো ঘর কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে দলবদল করেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে বিস্ফোরক অভিযোগ তিনি তুলেছেন, তাতে ঘাসফুল শিবিরের ‘ব্যবহার ও ছুড়ে ফেলা’র (Use and Throw) রাজনীতির কঙ্কালসার চেহারাটা আবারও জনসমক্ষে চলে এলো।

দিলু কেবল একজন বিধায়ক নন, তিনি এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর বাবা কাজী আব্দুল গফফুর ছিলেন ওই জনপদের কিংবদন্তি কংগ্রেস নেতা। এদিন কংগ্রেসে যোগ দিয়ে কাজী আব্দুর রহিম সরাসরি অভিযোগ করেন, তৃণমূল তাঁকে দলে নিয়েছিল তাঁর ব্যক্তিগত দক্ষতা বা জনভিত্তির জন্য নয়, বরং তাঁর বাবার রাজনৈতিক ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ বা উত্তরাধিকারকে নিজেদের ভোটব্যাঙ্কে কাজে লাগানোর জন্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তৃণমূল আমাকে তাঁদের দলে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছিল যাতে আমার বাবার ইমেজ ব্যবহার করা যায়। আমি নিজে থেকে যাইনি।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, কাজী আব্দুল গফফুরের মত প্রথিতযশা নেতার ছেলেকে দলে টেনে বাদুড়িয়া এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করাই ছিল শাসকদলের আসল লক্ষ্য। কাজ ফুরোতেই তাঁকে টিকিট না দিয়ে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় এবার কাজী আব্দুর রহিমের নাম না থাকায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিলু এদিন স্বীকার করেছেন যে, তৃণমূলের কর্মপদ্ধতি বা মানসিকতার সাথে তাঁর আদর্শ কোনোদিনই মেলেনি। তাঁর কথায়, “আমি জানতাম আমাকে টিকিট দেওয়া হবে না। ওদের (তৃণমূলের) সঙ্গে আমার মানসিকতা কোনোদিনই মেলে না। আমি আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম আমি কংগ্রেসে ফিরব।” প্রশ্ন উঠছে, যদি আদর্শগত অমিল থেকেই থাকে, তবে এতকাল তিনি সেই দলে কেন ছিলেন? না কি তৃণমূলের অন্দরে এখন সিন্ডিকেট রাজ এবং ব্যক্তিগত অনুগত্যের দাপট এতটাই বেড়েছে যে, পুরনো ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের সেখানে টেকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে? দিলুর এই মন্তব্য আদতে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলারই প্রমাণ দিচ্ছে।

বিজেপি বারবার অভিযোগ করেছে যে, তৃণমূল দলটা এখন স্রেফ একটি ‘ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ সংস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে পুরনো ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন কর্মীদের কোনো স্থান নেই। কাজী আব্দুর রহিমের মত একজন হেভিওয়েট বিধায়কের এই পদত্যাগ সেই অভিযোগকেই মান্যতা দিল। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার মতো স্পর্শকাতর জেলায় একজন বিদায়ী বিধায়ক যখন দল ছেড়ে বলেন যে তাঁকে স্রেফ ‘ব্যবহার’ করা হয়েছে, তখন নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ধাক্কা খাওয়া স্বাভাবিক।

আপাতত নিজের শিকড় বা পুরনো সংগঠন কংগ্রেসেই ফিরেছেন দিলু। তাঁর এই পদক্ষেপে বাদুড়িয়া কেন্দ্রে তৃণমূলের ভোট অংকে বড়সড় ধস নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবির মনে করছে, কাজী আব্দুর রহিমের মতো “ঘরছাড়া” নেতাদের ক্ষোভই এবার ব্যালট বক্সে তৃণমূলের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে। শাসকের ‘সুবিধাবাদী’ পলিসি যে সাধারণ মানুষ এবং দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধিরা ভালো চোখে দেখছেন না, এই দলবদল তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।

Exit mobile version