প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার ছাত্র ও যুব সমাজের ওপর কালীঘাটের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবার বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া সরিয়ে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমান্তরাল যুব সংগঠনকে টেক্কা দিতে এক ঝাঁক তরুণ তুর্কিকে সামনে নিয়ে এল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবির। দলের মূল রাজ্য কমিটি ঘোষণার পরপরই, এবার সমান্তরাল যুব এবং ছাত্র উইং-এর নতুন রাজ্য কমিটির নাম ঘোষণা করে এক চরম মাস্টারস্ট্রোক দিল বিদ্রোহীরা। যুব ও ছাত্র মহলে ঘাসফুল শিবিরের ক্ষমতার ভারসাম্য এক ধাক্কায় বদলে দিতেই এই রদবদল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এতদিন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক দাপট থাকলেও, ঋতব্রতদের নতুন যুব রাজ্য কমিটিতে বড় চমক দেওয়া হয়েছে। দলের যুব সংগঠনের নতুন রাজ্য সভাপতি পদের গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে দেগঙ্গার অত্যন্ত জনপ্রিয় বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশের কাঁধে। সংখ্যালঘু তরুণ ভোটব্যাঙ্ক ও প্রান্তিক স্তরের যুবকদের নিজেদের শিবিরে টানতে আনিসুর রহমান বিদেশকে সামনে রেখে ঘুঁটি সাজাল নতুন কমিটি। তাঁর সহযোগী তথা যুব সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি (Working President) পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দক্ষ যুব নেতা সৌরভ বসুকে।
যুবদের পাশাপাশি বাংলার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের ছাত্র রাজনীতি নিজেদের কবজায় আনতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) নতুন রাজ্য কমিটিও সাজিয়ে ফেলেছে ঋতপন্থী গোষ্ঠী। ছাত্র রাজনীতির নতুন রাজ্য চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ নেতা কোহিনূর মজুমদারকে। একই সঙ্গে, ছাত্র পরিষদের নতুন রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে রাজপথের লড়াকু ছাত্র মুখ সুদীপ রাহাকে। মূল দলের ছাত্র পরিষদের চেনা মুখদের সরিয়ে এই নতুন নামগুলি সামনে আসায় ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমান্তরাল ছাত্র ও যুব কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা খুব ভালো করেই জানেন যে, বাংলায় সংগঠনের ভিত মজবুত করতে হলে ছাত্র ও যুব শক্তিকে নিজেদের দিকে টানা আবশ্যিক। আর সেই কারণেই মমতা-অভিষেক শিবিরের চেনা সমীকরণ ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন এবং লড়াকু একঝাঁক তরুণ মুখকে সামনে এনে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে নামল ‘নতুন তৃণমূল’।
