প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোটের মুখে ফের মুখ পুড়লো রাজ্য সরকারের। একদিকে যখন জেলায় জেলায় তৃণমূলের দুর্নীতির খতিয়ান নিয়ে সরব বিরোধীরা, ঠিক তখনই দেশের সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইপ্যাক দপ্তরে ইডির তল্লাশিতে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে আজ সুপ্রিম কোর্টে কার্যত ধুয়ে দেওয়া হলো রাজ্য প্রশাসনকে। আদালতের কড়া প্রশ্ন: মুখ্যমন্ত্রী কেন তদন্তের জায়গায়?
প্রসঙ্গত, আজ ১৮ মার্চ ২০২৬, বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চে আইপ্যাক মামলার শুনানি চলাকালীন বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ দেয় শীর্ষ আদালত। ইডির আইনজীবী যখন জানান যে, গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক দপ্তরে তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর জেড প্লাস নিরাপত্তা নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন, তখন বিচারপতিরা স্তম্ভিত হয়ে যান। আদালত সটান প্রশ্ন তোলে, “ইডি যখন তল্লাশি চালাচ্ছে, তখন একজন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে সেখানে ঢুকে তদন্তে বাধা দিতে পারেন? তিনি ঢুকলে ইডি কি স্রেফ হাত গুটিয়ে বসে দেখবে?”
এদিন বারবার শুনানির তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানায় রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, “আপনারা আদালতকে নির্দেশ দিতে পারেন না যে, কখন শুনানি হবে।” দুর্নীতি লুকানোর জন্য সময় নষ্ট করার এই কৌশল আজ ধোপে টেকেনি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আজ আদালতকে জানিয়েছে, আইপ্যাক দপ্তরে তল্লাশি চলাকালীন অন্তত ২,৭৪২ কোটি টাকার কয়লা পাচার সংক্রান্ত দুর্নীতির জাল কাটতে ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর অনুগামীরা বেআইনিভাবে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ হার্ড ড্রাইভ ও নথি নিয়ে চম্পট দেন বলে অভিযোগ। ইডির দাবি, এটি ক্ষমতার চরম অপব্যবহার এবং আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানো। দেশের ইতিহাসে সম্ভবত প্রথমবার কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশিতে সশরীরে বাধা দিতে দেখা গেল, যা আদালতে প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক পদমর্যাদার জন্য বড় সংকট হতে পারে। শুধু তাই নয়, রাজ্য পুলিশ ও তৎকালীন ডিজিপি রাজীব কুমার যেভাবে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পালটা চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, তাও আজ আদালতের নজরে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ কার্যত পুলিশের সেই ষড়যন্ত্রকেই ফাঁস করে দিয়েছে।
ইডির দাবি অনুযায়ী, আইপ্যাকের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অর্থ তছরুপের যে তথ্য সামনে আসছে, তা তৃণমূলের নির্বাচনী তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। স্বাভাবিকভাবেই আজকের শুনানির পর রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রক্ষাকবচের যে আশায় মমতা সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল, তা বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। তদন্তে বাধা দেওয়ার এই ‘বেপরোয়া’ মনোভাব আদতে কী লুকানোর চেষ্টা, তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
