প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের একবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-র কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। অসুস্থতার দোহাই দিয়ে নিজের বাড়িতে বসে জিজ্ঞাসাবাদের যে ‘বিশেষ সুবিধা’ তিনি চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা তা সাফ জানিয়ে নাকচ করে দিয়েছে। ইডির স্পষ্ট বার্তা, তদন্ত হবে সংস্থার নিয়ম মেনেই, ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নয়। ফলে আগামীকাল অর্থাৎ ২৬ মার্চ, প্রাক্তন মন্ত্রীকে সশরীরে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সেই হাজিরা দিতে হবে।
এসএসসি নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এই বিপুল দুর্নীতির জট খুলতে কেন্দ্রীয় সংস্থা বারবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তলব করেছে। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত মোট তিনবার তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো অজুহাতে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। তাঁর আইনজীবীরা চিঠিতে দাবি করেছেন, প্রাক্তন মন্ত্রী শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ এবং এই অবস্থায় তাঁর পক্ষে সিজিও কমপ্লেক্সের মত জায়গায় যাতায়াত করা সম্ভব নয়। তাই মানবিকতার খাতিরে আধিকারিকরা যেন তাঁর বাড়িতে গিয়েই জেরা সম্পন্ন করেন।
তদন্তকারী আধিকারিকরা পার্থবাবুর এই ‘অসুস্থতার তত্ত্ব’ মানতে নারাজ। ইডি সূত্রের দাবি, তদন্তে দেরি করতেই এই ধরনের টালবাহানা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার মতে, নিয়োগ দুর্নীতির জাল অনেক গভীরে বিস্তৃত। এই দুর্নীতির ফলে রাজ্যের হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়েছে। সেই কোটি কোটি টাকার হদিশ পেতে অভিযুক্তকে সশরীরে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং নথিপত্র মিলিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। আধিকারিকদের মতে, বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে তদন্তের গোপনীয়তা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। তাই আইনি পথেই তাঁর আবেদন খারিজ করে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় জেল খাটার পর গত নভেম্বর মাসে জামিনে মুক্তি পান পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে জামিন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি অভিযোগ থেকে মুক্ত। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এখনও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম এবং বেনামি সম্পত্তির হদিশ পাওয়া বাকি আছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বারবার সমন পাঠানোর পরেও তিনি হাজিরা না দেন, তবে ইডি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তাঁর জামিন বাতিলের আবেদনও করতে পারে। যা প্রাক্তন মন্ত্রীর জন্য নতুন করে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে বিজেপি শিবিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের দাবি, “যাঁরা মানুষের হকের চাকরি চুরি করেছেন, তদন্তের সময় তাঁদের শরীর খারাপ হওয়াটা একটা পুরনো নাটকের অংশ।” সাধারণ মানুষের দাবি, এই টালবাহানা বন্ধ করে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইডির এই কড়া অবস্থানের পর আগামীকাল কি সিজিও কমপ্লেক্সে দেখা যাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে? নাকি শেষ মুহূর্তে ফের কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট পেশ করে হাজিরা এড়ানোর চেষ্টা করবেন তিনি? গোটা বাংলার নজর এখন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের দিকে।
