প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-টলিপাড়ার অন্দরমহলের চেনা সমীকরণ কি এবার সম্পূর্ণ বদলে যেতে চলেছে? গত কয়েকদিন ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক টেবিলে মুখোমুখি বসলেন টলিউডের তারকারা এবং সরকারি পদস্থ আধিকারিকরা। থমকে থাকা শুটিং, কাজের পরিবেশ এবং ফেডারেশনের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটাতে সোমবার নন্দনে আয়োজন করা হয়েছিল একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকের। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এই মেগা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির চার তারকা বিধায়ক— রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং পাপিয়া অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন স্টুডিও পাড়ার সাধারণ কলাকুশলী থেকে শুরু করে বহু টেকনিশিয়ানও। আর এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরেই সামনে এল এমন কিছু সিদ্ধান্ত, যা টলিউডের ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি।
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল স্বৈরাচার, কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে পক্ষপাতিত্ব এবং নানা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। এই সমস্ত অচলাবস্থার স্থায়ী সমাধান করতে বৈঠক থেকে একগুচ্ছ বৈপ্লবিক পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কাজের সুবিধার্থে এবং একাধিপত্য বা দাদাগিরি রুখতে সম্পূর্ণ নতুন এবং দুর্নীতিমুক্ত গিল্ড বা সংগঠন তৈরি করা হবে। প্রতিটি আলাদা আলাদা গিল্ড থেকে ১ জন করে প্রতিনিধি নিয়ে একটি শক্তিশালী ‘ওয়ার্কিং কমিটি’ গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিতে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন সরকারি প্রতিনিধিরাও। সিনেমা বা সিরিয়ালের শুটিং সংক্রান্ত যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিবিশেষ নয়, বরং এই কমিটি সম্মিলিতভাবে নেবে। ওয়ার্কিং কমিটির কাজ পরিচালনায় কোনো জটিলতা বা অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দিলে, তার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মাথায় থাকছে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘অ্যাডভাইসরি কমিটি’।
শুধু ক্ষমতার রদবদলই নয়, স্টুডিও পাড়ার সাধারণ টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীদের কথা মাথায় রেখে কাজের শিফট, ডিউটির সময়সীমা এবং পারিশ্রমিকের নতুন কাঠামো নিয়েও এই বৈঠকে বড়সড় ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। বৈঠক শেষে বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। রুদ্রনীল স্পষ্ট জানান, যারা এতদিন টলিপাড়ায় ‘ব্যান কালচার’ (কাজ বন্ধ করে দেওয়ার সংস্কৃতি) চালিয়ে আসছিলেন, মানুষ আজ তাঁদেরই ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই কাজ পাবেন, কাউকে বঞ্চিত করা চলবে না।
অন্যদিকে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, কোনো একক স্বৈরাচারী রাজত্ব আর টলিপাড়ায় চলবে না, পক্ষপাতহীন মানুষদের হাতেই তুলে দেওয়া হবে নতুন দায়িত্ব।রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর টলিউডের প্রশাসনিক কাঠামোতে এই মেগা রদবদল আগামী দিনে বাংলা বিনোদন দুনিয়াকে কতটা সচল করতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা স্টুডিও পাড়া।
