Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তৃণমূলের ৩ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের দাবিতে সাইবার থানায় ঋতব্রতপন্থী ১০ বিধায়ক, আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন ও তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল অব্যাহত। এবার দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে সরাসরি দলীয় তহবিলের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন খোদ দলেরই বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। তৃণমূল কংগ্রেসের ৩টি প্রধান ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে ফ্রিজ বা স্থগিত করার দাবি জানিয়ে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ঋতব্রতপন্থী ১০ জন বিধায়ক। অভিযোগকারী বিধায়কদের প্রথম সারিতে রয়েছেন সন্দীপন সাহা। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ক্ষমতা হারানোর ধাক্কায় তৃণমূলের ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দল’ ও দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাটানি এখন প্রকাশ্য আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে।

বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে বিক্ষুব্ধ বিধায়করা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন। তৃণমূলের ওই ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিধায়কদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের থেকে নেওয়া ‘কাটমানি’ এবং বিভিন্ন অনিয়মের টাকা এই অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে যাতে কোনওরকম আর্থিক তথ্যপ্রমাণ লোপাট বা আর্থিক লেনদেন না হতে পারে, তার জন্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাইবার ক্রাইম পুলিশকে অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করার আর্জি জানানো হয়েছে।বিধায়ক সন্দীপন সাহা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলের কোষাগারে কোন কোন উৎস থেকে টাকা ঢুকেছে, তার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই আইনি পদক্ষেপ জরুরি।

কয়েকদিন আগেই তৃণমূলের রাজ্য কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস স্বয়ং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত রকম আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থাৎ, দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই এখন আড়াআড়ি বিভক্ত কালীঘাট। সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তড়িঘড়ি দল থেকে বহিষ্কারের নোটিস পাঠিয়েছিল মমতা ব্যানার্জির অনুগত শিবির। কিন্তু আলিপুর আদালত সেই বহিষ্কারের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করায় আইনি ধাক্কা খেয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। খাতায়-কলমে মমতা ব্যানার্জি দলের সুপ্রিমো হলেও, বিধানসভার সিংহভাগ তৃণমূল বিধায়ক এবং সাংসদ এখন প্রকাশ্যেই ঋতব্রতের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে ক্ষমতা হারানোর পর দলের রাশ যে তাঁদের হাত থেকে আলগা হচ্ছে, তা এই ঘটনাতেই স্পষ্ট।

যে দল এতদিন ‘সততার প্রতীক’ স্লোগানকে সামনে রেখে রাজনীতি করেছে, আজ ক্ষমতা থেকে চ্যুত হতেই তাদের নিজেদের ঘরের বিধায়করাই থানার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে তহবিলের দিকে আঙুল তোলায় স্বাভাবিকভাবেই কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই আর্থিক লেনদেন বিতর্ক তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনকে আরও বাড়িয়ে দিল।

Exit mobile version