প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির চাকা ঘুরতে সময় লাগে না, ক্ষমতার দম্ভ যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে, তার সাক্ষী থাকল আজ বিধানসভার অলিন্দ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর আজ যেন মহাকালের অমোঘ নিয়তি নেমে এল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর। দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে আজ বিধানসভায় ঘটল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। একের পর এক তৃণমূল বিধায়ক আজ স্পিকারের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন। তবে মুখে কোনো স্লোগান নেই, চোখে-মুখে কেবলই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের স্পষ্ট ছাপ।
সকাল থেকেই বিধানসভার লবিতে চেনা ছন্দ উধাও। একে একে প্রবেশ করছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। সূত্রের খবর, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন বিধায়ক আজ এককাট্টা হয়েছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে এই বিশাল বিধায়ক দল সরাসরি স্পিকারের সচিবালয়ের দিকে রওনা দিয়েছেন। বিদ্রোহী শিবিরের স্পষ্ট দাবি, দলীয় বিধায়কদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি অংশ এখন তাঁদের সাথে। ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইন তাঁদের স্পর্শ করতে পারবে না। তাঁরাই এখন নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ বলে দাবি করছেন।
শুধু দল ভাঙা নয়, জোড়াফুল প্রতীকটি যাতে হাতছাড়া না হয়, তার আইনি ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে। একই সাথে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় নতুন বিরোধী দলনেতা (LoP) করার দাবিতে স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত। বিদ্রোহের আঁচ পেয়েই তৃণমূলের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ ও অসীমা পাত্ররা তড়িঘড়ি স্পিকারের দপ্তরে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ৭৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর ছাড়া এই ধরণের কোনো প্রস্তাব সম্পূর্ণ বেআইনি। দলের এই শোচনীয় দশায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় দেখিয়ে এবং হুমকি দিয়ে তাঁদের বিধায়কদের জোরপূর্বক দল ভাঙতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এতদিন যে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, আজ তারাই মুখ ফিরিয়ে নিতেই কেন এই হাহাকার?
২০৮ টি আসন জিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে রাজ্যে ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাষ্ট্রবাদী সরকার কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়ে দিয়েছেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ নাটকের সাথে বিজেপির কোনো যোগ নেই। এই বিদ্রোহী নেতাদের কাউকেই বিজেপিতে নেওয়া হবে না, কারণ বিজেপি দলে কোনো ‘তৃণমূলীকরণ’ চায় না। লুঠপাট আর দুর্নীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সাম্রাজ্য যখন ভেঙে পড়ে, তখন এভাবেই একে একে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে জাহাজ ছাড়ে। আজ বিধানসভার অলিন্দে তৃণমূলের যে ভাঙন স্পষ্ট হচ্ছে, তা আসলে বাংলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই এক রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ। আজ কি তবে সত্যিই সম্পূর্ণ হতে চলেছে ‘তৃণমূল-মুক্ত বাংলা’র স্বপ্ন? নজর থাকবে বিধানসভার প্রতি মুহূর্তের আপডেটে।
