Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তৃণমূলে মহাধস? প্রথম কর্মসূচিতেই উধাও ৫০ বিধায়ক, ঘোর সংকটে খোদ ‘প্রধান বিরোধী দল’!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার মায়াজাল ছিন্ন হতেই কি তবে আলগা হচ্ছে ঘাসফুল শিবিরের বাঁধন? ২০২৬-এর নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর প্রধান বিরোধী দলের তকমা সাঁটানো তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম বড়সড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই দেখা গেল সেই চরম সমন্বয়হীনতার করুণ ছবি। হকার উচ্ছেদের মতো এক আবেগঘন ইস্যুকে ঢাল করে বিধানসভার আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে নতুন করে রাজনৈতিক জমি খোঁজার মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল দল। কিন্তু বিধি বাম! ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হওয়া সেই প্রথম ধরনা মঞ্চেই ধরা পড়ল কঙ্কালসার দশা—খোদ দলেরই প্রায় ৫০ জন বিধায়ক কর্পূরের মতো উবে গিয়েছেন।

প্রথম ইনিংসের শুরুতেই সেনাপতিদের এই গণ-অন্তর্ধানের ঘটনায় যখন রাজ্য রাজনীতিতে হাসির রোল উঠেছে, তখন মুখ পুড়তে দেখে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা। তাঁদের দাবি, কম সময়ের নোটিশে কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল, তাই নাকি উত্তরবঙ্গ বা দূরবর্তী জেলার বিধায়করা সময়মতো কলকাতায় এসে পৌঁছাতে পারেননি। প্রশ্ন উঠছে, যে দল এতদিন নিজেদের চরম সুশৃঙ্খল এবং হাইটেক বলে বড়াই করত, বিরোধী আসনে বসতেই কি তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটা ভেঙে পড়ল? নাকি ট্রেনের টিকিট আর বাসের অভাবের এই ক্লিশে বাহানার আড়ালে আসলে লুকিয়ে রয়েছে গভীর এক ক্ষোভ ও হতাশা, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এতদিন যারা ক্ষমতার অলিন্দে থেকে রাজনীতির মধুচন্দ্রিমা উপভোগ করেছেন, বিরোধী আসনের চড়া রোদ গায়ে লাগতেই তাঁদের একাংশের মোহভঙ্গ হতে শুরু করেছে। ক্ষমতার স্বাদ চলে যাওয়ার পর এই প্রথম দলীয় কর্মসূচিতেই ৫০ জন জনপ্রতিনিধির সুকৌশলে দূরত্ব বজায় রাখা আসলে শীর্ষ নেতৃত্বের দিশাহীন রণকৌশলের বিরুদ্ধে এক নীরব বিদ্রোহেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

বিশ্লেষকদের দাবি, শাসক দল হিসেবে এতদিন যারা হকার সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি, আজ ক্ষমতা হারিয়ে রাতারাতি তাঁদের জন্য দরদ উথলে ওঠা আসলে এক রাজনৈতিক দ্বিচারিতা। আর এই ‘নাটকীয়’ কর্মসূচির সারবত্তা যে খোদ দলের বিধায়করাই বিশ্বাস করতে পারছেন না, তা এই বিপুল গরহাজিরাতেই প্রমাণিত।

এই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলাকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি শিবির। গেরুয়া নেতৃত্বের মতে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তৃণমূলের নৌকো যে ডুবতে বসেছে, তা দলের জনপ্রতিনিধিরাই সবার আগে টের পেয়ে গিয়েছেন। আর তাই, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সুরক্ষার কথা ভেবেই প্রথম দিন থেকে ৫০ জন বিধায়ক নিজেদের ‘অসুস্থ’ বা ‘অনুপস্থিত’ রাখার নিরাপদ রাস্তা বেছে নিয়েছেন।ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম দিনেই এই ‘পঞ্চাশের ধাক্কা’ বুঝিয়ে দিল, বাইরে যতই ‘অল ইজ ওয়েল’ দেখানো হোক না কেন, তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এখন আর কোনো আঠা দিয়েই জোড়া লাগার নয়।

Exit mobile version