প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বদলে গিয়েছে চেনা সমীকরণ, আর তাতেই যেন এবার কড়া আইনের মুখে রাজ্যের বর্তমান প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের ‘দাপুটে’ নেতারা! খোদ বিরোধী শিবিরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের পৈলানের বিলাসবহুল বাড়িতে পুলিশি হানার পর তাঁর পাঁচিল টপকে উধাও হওয়ার ঘটনায় এমনিতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এল সবচেয়ে বড় খবর। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশের যৌথ বাহিনী গভীর রাতে বকখালির ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলবর্তী এলাকায় এক রুদ্ধশ্বাস অপারেশন চালায়। আর তাতেই জালে উঠলেন বিষ্ণুপুরের বিরোধী বিধায়কের পুত্র তথা একদা এলাকার ‘যুবরাজ’ হিসেবে পরিচিত অর্ঘ্য মণ্ডল।
সূত্রের খবর, পুলিশকে ফাঁকি দিতে বকখালির এক গোপন আস্তানায় আশ্রয় নিয়েছিলেন এই বিরোধী নেতার পুত্র। কিন্তু আইন ও প্রযুক্তির যৌথ বু্যহের কাছে শেষরক্ষা হলো না। STF ও জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী চারদিক থেকে ওই আস্তানাটি ঘিরে ফেলে। অর্ঘ্য মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুগামী হাসান গাজীসহ মোট ৫ জনকে পুলিশ হাতেনাতে পাকড়াও করে। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রও।
শাসক দল বদলে গেলেও আইনশৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনের এই পক্ষপাতহীন অতি-সক্রিয়তা আমজনতার নজর কেড়েছে। বিজেপি কর্মীদের ওপর উসকানিমূলক মন্তব্য ও এলাকায় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুতর অভিযোগে দায়ের হওয়া সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতেই এই হেভিওয়েট গ্রেফতারি। ধৃতদের আজই মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।
এদিকে পৈলানের বাড়ি থেকে নাটকীয়ভাবে চম্পট দেওয়া তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ক্ষমতায় না থাকলেও আইন সবার জন্য সমান, তাহলে একজন বিরোধী জনপ্রতিনিধি কেন আইনকে সম্মান না জানিয়ে পলাতক? রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়ক-পুত্রের এই গ্রেফতারি বিষ্ণুপুরের বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিরাট ধাক্কা। শেষ পর্যন্ত বিধায়ক আইনের মুখোমুখি হন নাকি অধরাই থাকেন, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।
