প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সাময়িকভাবে ফ্রিজ (স্থগিত) করার পর আইনি লড়াই এবার পৌঁছাল এক নতুন মোড়ে। আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ১১টার চূড়ান্ত ডেডলাইনের মধ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে উভয় পক্ষকেই তিনটি বিকল্প নাম এবং তিনটি মুক্ত প্রতীক (Free Symbols) জমা দিতে হয়েছিল। আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য কমিশন আজ দুপুরের মধ্যেই দুই শিবিরের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নতুন নাম ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করতে চলেছে।
নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশিকা অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষই মূল দলের নাম অর্থাৎ ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং মূল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। তবে কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী নামের ক্ষেত্রে মূল দলের নামের ছোঁয়া (যেমন ‘তৃণমূল’ শব্দটি) রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নবান্ন ও কমিশন সূত্রে খবর, নিচুতলার গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে দলের পরিচিতি বজায় রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির তাদের পছন্দের তালিকায় ‘তৃণমূল’ শব্দটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। একইভাবে বিদ্রোহী অরূপ রায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীও নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ প্রমাণ করতে নামের বিকল্প তালিকায় এই শব্দটির ব্যবহার অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
যেহেতু সংরক্ষিত ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীকটি এখন সম্পূর্ণ লকড, তাই নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ‘ফ্রি সিম্বল’ বা মুক্ত প্রতীকের তালিকা থেকেই দুই পক্ষকে প্রতীক বেছে নিতে হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই শিবিরের পক্ষ থেকে যে সমস্ত প্রতীকের দাবি জানানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে চাষাবাদ বা সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত সহজ ও চেনা প্রতীক যেমন ‘ট্র্যাক্টর চালক কৃষক’ (Tractor Chalak Kisan), ‘কলসি’ (Earthen Pot) অথবা ‘বই’ (Book)-এর মতো মুক্ত প্রতীকগুলিকে তালিকায় রেখেছে। অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আধুনিক এবং কিছুটা আলাদা ধরণের প্রতীক যেমন ‘কম্পিউটার’ (Computer), ‘ক্যামেরা’ (Camera) অথবা ‘রং ও তুলি’ (Brush and Palette)-কে নিজেদের পছন্দের তালিকায় রেখেছে।
আজ সকাল ১১টায় ডেডলাইন শেষ হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী বিভাগ (Election Expense & Allotment Wing) দুই পক্ষের দেওয়া নাম ও প্রতীকের ক্রস-চেক শুরু করেছে। যদি দুই পক্ষই একই নাম বা প্রতীক প্রথম পছন্দে রেখে থাকে, তবে লটারির মাধ্যমে বা দলের আবেদনের সময় অনুযায়ী তা বরাদ্দ করা হবে। আজ বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যেই দুই পক্ষের প্রার্থীরা তাঁদের নতুন অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীক হাতে পেয়ে যাবেন। এরপরই নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং বিজেপির হাসিরানি রথ-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ নতুন চিহ্নে দেওয়াল লিখন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন শুরু হবে। তিন দশকের অভ্যস্ত ইভিএম বোতামের বদলে নতুন কোন চিহ্নে ভোটাররা সিলমোহর দেবেন, তার মহড়া শুরু হচ্ছে আজ থেকেই।
