প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে জোট নিয়ে তীব্র জল্পনা ও টানাপড়েনের আবহেই প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরায় এক নজিরবিহীন ও বড়সড় রাজনৈতিক মেরুকরণ প্রকাশ্যে এল। ত্রিপুরার আসন্ন পুরভোটকে কেন্দ্র করে বিরোধী ভোটব্যাঙ্কের বিভাজন রুখতে এবং ক্ষমতাসীন বিজেপিকে জোর ধাক্কা দিতে একজোট হয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামছে বাম ও কংগ্রেস। ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের এই পুরভোটে এবার ত্রিপুরার মাটিতে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে বড় খেলা দেখাতে চলেছে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লক। সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার মাধ্যমে ত্রিপুরার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ গরম করে দিয়েছেন ত্রিপুরা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
আগরতলা পুরসভার (AMC) মোট ৫১টি আসনের মধ্যে বামফ্রন্টের তরফে ইতিমধ্যেই ২৬টি আসনে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে চূড়ান্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে বাকি ২৫টি আসনে। এই ২৫টি আসন মূলত জোটের অন্যতম শরিক কংগ্রেসের জন্য ছেড়ে রাখা হয়েছে। বাকি আসনগুলির বিষয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দলগুলির সঙ্গে যৌথ আলোচনার ভিত্তিতেই বাকি আসনগুলির বিষয়ে খুব দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” সিপিএম (CPI-M) ও কংগ্রেস সূত্রের খবর, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি থেকে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব আগরতলায় ফিরলেই বাকি আসন বণ্টন প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিলমোহর পড়বে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সূত্র মেনে বামফ্রন্ট মোট ২৯টি এবং কংগ্রেস ২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে যৌথ সমঝোতায় পৌঁছেছে।
ত্রিপুরার রাজ্য নির্বাচন কমিশন (SEC) ইতিমধ্যেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ২১টি পুরসভা এবং নগর পঞ্চায়েতের ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। আগামী ২৭ নভেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) আগরতলা পৌর নিগমসহ গোটা ত্রিপুরার ২১টি নগর সংস্থায় একযোগে ভোটগ্রহণ হবে। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন: ৬ নভেম্বর ২০২৬। আগামী ২ ডিসেম্বর ২০২৬ (বুধবার) সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হবে এবং ওই দিনই স্পষ্ট হয়ে যাবে ত্রিপুরার পুরভোটের ভাগ্য কার দিকে যাচ্ছে। বিগত পুরভোট গুলিতে যেভাবে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট লুঠের অভিযোগ তুলেছিল বিরোধী শিবির, সেই ইতিহাসকে এবার জোরদার প্রতিরোধে বদলে দিতে চাইছে তারা। রাজ্যের সাধারণ ভোটারদের অবাধে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা দিতে এবং জনমুখী পুরপরিষেবা সুনিশ্চিত করতেই বিরোধীদের এই মহাজোট ত্রিপুরার নির্বাচনী ময়দানে বিজেপিকে এক কড়া ও নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
