Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বাংলায় তোলপাড়! ‘টাকার পাহাড়ের’ মালিক টুলু মণ্ডল উধাও হয়েও হাইকোর্টে! বিরাট চাল চাললেন ‘পাথর সম্রাট’!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বীরভূমের মহম্মদ বাজারে কোটি কোটি টাকার বিপুল নগদ এবং সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য! পুলিশ যখন হন্যে হয়ে খুঁজছে, ঠিক তখনই এক চরম নাটকীয় মোড় নিলেন বীরভূমের বিতর্কিত ‘পাথর সম্রাট’ নিজাবউদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। পুলিশের নাগাল এড়িয়ে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে (নিখোঁজ) থেকেই নিজের গ্রেফতারি এড়াতে আজ, বুধবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন টুলু মণ্ডল। বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়ে দুবাইতে পালিয়ে গিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। তবে অন্তরাল থেকেই আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই জরুরি আবেদনটি জমা পড়েছে।

সম্প্রতি বীরভূমে বেআইনি বালি ও পাথর খনি রুখতে এবং সিন্ডিকেট রাজ খতম করতে এক ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার ও রাজ্য পুলিশ। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই টুলু মণ্ডলের আত্মীয় ও ম্যানেজার মনার মণ্ডলের বাড়িতে ম্যারাথন হানা দেয় পুলিশ ও এসটিএফ। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৮.৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি খাঁটি সোনা (যার বাজারমূল্য প্রায় ২১.৫ কোটি টাকা)! বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ নিশ্চিত করেছেন যে, এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের সাড়ে তিনশো বিঘা জমি, বিলাসবহুল ফার্মহাউস, পেট্রোল পাম্প এবং নগদ মিলিয়ে প্রায় ২২০ কোটি টাকার বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও সিল করা হয়েছে। এমনকি তাঁর মেয়ের বিয়েতে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের এক রাজকীয় অনুষ্ঠানের জন্য গ্রামবাসীদের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও সামনে এসেছে।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই এই বিপুল দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই মেগা উদ্ধারের পর মুখ্যমন্ত্রী এক্স (X) হ্যান্ডেলে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, জনসাধারণের সম্পদ লুঠ করে এবং পূর্বতন রাজনৈতিক দলের মদতে যারা টাকার পাহাড় বানিয়েছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ইতিমধ্যেই পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে টুলু মণ্ডলকে খুঁজে বের করার। অন্যদিকে, এই ঘটনার জল গড়িয়েছে আরও বহুদূর। আজই জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডলের এই বিপুল সম্পত্তির তদন্তে এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED) কোমর বেঁধে নামছে। এফআইআর (FIR)-এর বিবরণ চেয়ে ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশকে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পুলিশ এবং ইডি যখন চারদিক থেকে ঘেরাও করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই গ্রেফতারি থেকে বাঁচতে হাইকোর্টে রক্ষাকবচের ঢাল চাইলেন এই প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী। এখন দেখার, আদালত উধাও হয়ে থাকা এই টুলু মণ্ডলকে কোনো আইনি স্বস্তি দেয় নাকি পুলিশের অভিযানই সফল হয়।

Exit mobile version