Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“উনি পারবেন তো, এপ্রিল মাসে এই টাকাটা দিতে?”‌ যুবসাথী নিয়ে মমতাকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- অনেকেই ভাবছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার হয়ত ভোটের আগে ওই বেকার যুবকদের দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার জন্য যুব সাথী প্রকল্প চালু করে এবার ক্ষমতায় আসবেন। কিন্তু যারা সেই যুবসাথী প্রকল্পের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, সেই সমস্ত বেকার যুবক-যুবতীরা স্থির করে নিয়েছেন যে, তৃণমূল সরকার থাকলে তারা চাকরি পাবে না। যারা ভোটের আগেই ভাতা দিয়ে রাখে, তারা ভোটের পরে যে চাকরি বলতে আর কিছুই রাখবে না, তা বুঝতে পারছে বাংলার যুবসমাজ। আর সেই কারণে ওই দেড় হাজার টাকা পাওয়ার জন্য যেমন তারা লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম ফিলাপ করছেন, ঠিক তেমনই ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েও যে তারা তৃণমূলের বিরুদ্ধেই রায় দেওয়ার জন্য তৈরি আছেন, তা সকলেই বুঝতে পারছেন। অনেকে আবার বলছেন, এই যুবসাথী প্রকল্প করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকটাই জনসমর্থন নিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু বাংলার যুবসমাজ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধাপ্পাবাজি ধরে ফেলেছে এবং লাভের লাভ যে কিছুই হবে না, তা আবারও স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তার ওপেন চ্যালেঞ্জ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যে, আদৌ এপ্রিল মাসে মুখ্যমন্ত্রী এই টাকাটা দিতে পারবেন তো? নাকি জেনে বুঝেই তিনি এই চালাকিটা করেছেন যে, এপ্রিল মাসের আগে ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে। তাই তখন টাকা দিতে হবে না। আর তিনি বলবেন যে, ভোট ঘোষণা হয়ে গেলে আমি টাকা কি করে দেব, আমাকে তো দিতে দিচ্ছে না। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই রকম গাল গল্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেই জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

এবারের রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে ঘোষণা হয়েছে যুবসাথী প্রকল্প। যেখানে দেড় হাজার টাকা করে আগস্ট মাস থেকে প্রথমে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু হয়ত তারপরেই তার প্রশাসন তাকে খবর দিয়েছে যে, আগস্ট মাসে দিলে সাধারণ মানুষ তাকে বিশ্বাস করবে না। ফলে তিনি ভোট পাবেন না। তাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার দিন তিনি যাতে এগিয়ে আনার কথা ঘোষণা করেন। তারপরে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন যে, এপ্রিল মাস থেকেই এই টাকা দেওয়া হবে। তবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা প্রথম দিন থেকেই দাবি করছেন, এসব গাল গল্প ছাড়া আর কিছু নয়। ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে মার্চের শুরুতেই। তাই তারপর নিয়মমত এই সমস্ত টাকা আর দিতে পারবেন না এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই ইচ্ছাকৃতভাবেই এপ্রিল মাস থেকে টাকা দেওয়া হবে বলে আবার একটা ঢপের চপ সামনে এনেছেন তিনি। তাই এবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আদৌ এপ্রিল মাস থেকে মুখ্যমন্ত্রী সেই টাকা দিতে পারবেন তো? তা নিয়ে তাকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর সেখানেই তিনি বলেন, “কোনো লোক এই প্রকল্পের ঘোষণায় চাপে পড়েনি। সাধারণ মানুষ চাকরি চায়। ৩৪৯ টাকা লাগে রিচার্জ করতে। এই টাকাতে কিচ্ছু হয় না। লোক শিল্প চায়। চাকরি চায়। লোক টাটাকে ফিরিয়ে আনতে চায়। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ তুলে দিয়েছেন, আবার সেটা চালু করা হোক, এটা চায়। আর ওনার এইসব ধাপ্পাবাজি সাধারণ মানুষ জানে। ২০১৩ সালে যুবক যুবতীরা ১৭ লক্ষ ফর্ম ফিলাপ করেছিল। সেগুলো উনি কেজি দরে বিক্রি করেছেন। উনি পারবেন তো, এপ্রিল মাসে দিতে? উনি জানেন, ভোট ঘোষণা হবে। দিতে হবে না।”

Exit mobile version