Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

অবশেষে বড় পতন! দেশ কাঁপানো আন্দোলনের জেরে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশজুড়ে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG 2026-র প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং ছাত্র আন্দোলনের তীব্র চাপের মুখে পড়ে অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। দেশজুড়ে চলা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা লাগাতার ছাত্র বিক্ষোভ এবং যন্তর মন্তরে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ অনশনের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই হেভিওয়েট মন্ত্রীর পদত্যাগ নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘X’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট করে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। নিজের পদত্যাগপত্রে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের “তরুণ বন্ধু” বলে সম্বোধন করে তিনি লিখেছেন। গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ এবং দেশের যুবসমাজের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও আবেগের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবি, যন্তর মন্তর সহ সারা দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার সুযোগ যেন কোনো “দেশবিরোধী শক্তি” নিতে না পারে, সেই কারণেই তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি চান না দেশের ছাত্রসমাজ পড়াশোনা ছেড়ে কোনো আইনি জটিলতা বা বিভ্রান্তির বেড়াজালে জড়িয়ে পড়ুক। শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য তিনি প্রথম দিন থেকেই নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছিলেন উল্লেখ করে প্রধান দেশের প্রধানমন্ত্রীকে তাঁকে সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল মূলত যুব ও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গঠিত স্বতঃস্ফূর্ত সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। পরীক্ষার দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার দাবিতে গত এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে তাঁরা ক্যাম্প করে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন। সরকারের সাথে আন্দোলনকারীদের তৃতীয় দফার বৈঠকের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই শিক্ষামন্ত্রীর এই ইস্তফা আন্দোলনকারীদের একটি ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দিল্লির আন্দোলনস্থলে উৎসবে মেতে ওঠেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে একে “গণতন্ত্রের জয়” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদত্যাগ সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের শান্ত করার একটি বড় কৌশল। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নফাঁস রুখতে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে একটি অত্যন্ত কড়া ‘অ্যান্টি-পেপার লিক আইন’ (Anti-Paper Leak Law) আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই আইনের অধীনে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও সরকারি মহলের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও সরকারের এই পিছু হটাকে স্বাগত জানিয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে NEET বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবি তুলেছে।

Exit mobile version