প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার ইতিহাসে কি এক নতুন বিপ্লব ঘটতে চলেছে? আজ বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এমন এক ঘোষণা করলেন, যা শুনে কার্যত স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক মানুষের জন্য শাহের ঝুলি থেকে আজ যা বেরোল, তা আগামী দিনে বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর খোলনলচে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এক ইশারায় কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন শাহ।
অমিত শাহ আজ স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি হলো—আয়ুষ্মান ভারতের সাথে বর্তমানে চালু থাকা মুখ্যমন্ত্রীর যোজনাকেও সংযুক্ত (Merge) করে দেওয়া হবে। এর ফলে রাজ্যের প্রতিটি গরিব মানুষ ১০০ শতাংশ নিশ্চিতভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। কেন্দ্রের ৫ লক্ষ টাকার বিমার পাশাপাশি রাজ্য প্রকল্পের সুবিধাও মিলবে একই ছাতার তলায়। শাহের কথায়, “এখন থেকে চিকিৎসার জন্য কোনো গরিব মানুষকে জমি বা গয়না বিক্রি করতে হবে না, প্রতিটি প্রাণ হবে সুরক্ষিত।”
উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের লড়াই ছিল ক্যানসারের মতো মারণ ব্যাধির বিরুদ্ধে। সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে পাহাড় ও সমতলের বহু মানুষকে চিকিৎসার জন্য হয় কলকাতা, নয়তো দক্ষিণ ভারতের ভেলোর বা ব্যাঙ্গালোরের দিকে ছুটতে হতো। আজ সেই যন্ত্রণার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেছেন, উত্তরবঙ্গে একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যাধুনিক ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করা হবে। এই হাসপাতালে থাকবে: বিশ্বমানের রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি ইউনিট। অত্যাধুনিক সার্জিক্যাল বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্র। পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের মানুষের জন্য বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা। সব ধরনের আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি, যা আগে কেবল বড় শহরেই সীমাবদ্ধ ছিল।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, শাহের এই ঘোষণা কেবল একটি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত ব্লু-প্রিন্ট। একদিকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পের সুবিধা একত্রিত করে চিকিৎসার খরচ শূন্যে নামিয়ে আনা, আর অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের মতো অবহেলিত অঞ্চলে ক্যানসার হাসপাতালের মতো বিশাল পরিকাঠামো তৈরি করা—এই জোড়া আক্রমণ বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগছে, তবে কি এবার সত্যিই বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হতে চলেছে?
শাহের এই ঘোষণার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের চা-বাগান থেকে শুরু করে শিলিগুড়ি বা জলপাইগুড়ির অলিগলিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটাই—‘ঘরের কাছেই এবার বিশ্বমানের চিকিৎসা’। ক্যানসার আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা এই ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন। বিনামূল্যে চিকিৎসা আর ঘরের কাছে সুপার স্পেশালিটি ক্যানসার হাসপাতাল—অমিত শাহের এই ‘সংকল্প’ কি সত্যিই বদলে দেবে বাংলার মানুষের ভাগ্য? আজকের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার প্রভাব যে সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
