Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

উত্তরবঙ্গে মহাগর্জন, দক্ষিণবঙ্গে শোকের ছায়া! একদিকে কপ্টারে উড়ল বিহারের বাঘিনী, অন্যদিকে চিড়িয়াখানায় সিংহীর মৃত্যুতে নজিরবিহীন তদন্তের নির্দেশ!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের বন্যপ্রাণী ও বন দফতরকে কেন্দ্র করে দুই প্রান্তে একই সাথে ঘটে গেল চরম আলোড়ন সৃষ্টিকারী দুটি ঘটনা। একদিকে উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পকে (Buxa Tiger Reserve) ফের বাঘের স্থায়ী আস্তানা হিসেবে গড়ে তুলতে এক অভূতপূর্ব অভিযান সফল করল বন দফতর। দীর্ঘ চেষ্টার পর বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে অবশেষে ঘুমপাড়ানি গুলি (ট্র্যাঙ্কুলাইজার) ছুঁড়ে খাঁচাবন্দি করা হয়েছে একটি তিন বছর বয়সি রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনীকে।বাঘিনীটিকে বিহার থেকে গোরক্ষপুর হয়ে সরাসরি বিশেষ বিমান বা কপ্টারে উড়িয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে ডুয়ার্সের হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সড়কপথে নিয়ে যাওয়া হবে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে। বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ জানিয়েছেন, যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত। আগামী ২ অক্টোবর (গান্ধী জয়ন্তী) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বাঘিনীটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্সার মূল জঙ্গলে অবমুক্ত করা হবে।

উত্তরবঙ্গের এই বিরাট সাফল্যের আনন্দের মাঝেই তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণবঙ্গের আলিপুর চিড়িয়াখানায় (Alipore Zoo)। ওড়িশার নন্দনকানন থেকে প্রজননের উদ্দেশ্যে বছর আড়াই আগে নিয়ে আসা সাড়ে চার বছরের একটি সিংহী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।চিড়িয়াখানা সূত্রের দাবি, সিংহীটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। বেশ কিছু দিন ধরেই সিংহীটির পায়ে একটি গভীর সংক্রমণ হয়েছিল, যার জেরে চামড়া ও লোম উঠে যাচ্ছিল। গত রবিবার সিংহীটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে তড়িঘড়ি চিড়িয়াখানার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার সকালে তার মৃত্যু ঘটে।

চলতি মাসেই আলিপুর চিড়িয়াখানায় শকুন ও রাজহাঁসের মৃত্যুর পর এবার এই সিংহীর মৃত্যুতে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। ঘটনার আসল সত্যতা এবং চিকিৎসায় কোনও খামতি ছিল কি না, তা খুঁজে বের করতে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি (Investigation Committee) গঠনের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। চিড়িয়াখানার সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বনমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে বলেন: “আলিপুর চিড়িয়াখানায় সিংহী মৃত্যুর ঘটনার কথা আমি জেনেছি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর চিড়িয়াখানার যে পরিস্থিতি দেখেছি, তাতে বলতে পারি দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময়ের পাপের ফল আমাদের ভুগতে হচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের যা যা করণীয় তা আমরা করব।” বনমন্ত্রী আরও জানান যে, মাস দেড়েক আগে তিনি নিজেই চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে গিয়ে সিংহীটির শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকার বিষয়টি টের পেয়েছিলেন। এই ঘটনার তদন্তে দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে বন দফতর।

Exit mobile version