Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

জাতীয় গীতের চরম অবমাননা! সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ও অমিত শাহ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-স্বাধীনতা দিবসের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও তীব্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এআইসিসি (AICC) সদর দফতরে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননার অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনায় সরব হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও কংগ্রেসকে সরাসরি তুলোধোনা করেছেন।

গতকাল, ১৬ আগস্ট ২০২৬ (রবিবার) একটি সাংবাদিক বৈঠক থেকে কংগ্রেসের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ভাইরাল ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে অত্যন্ত কড়া বার্তা দেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “ভিডিওটিতে দেখা গেছে, সনিয়া গান্ধী সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম গান গাওয়াতে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছেন এবং তা মাঝপথে থামানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই দৃশ্য লাইভ টেলিকাস্টে গোটা ভারতবর্ষের মানুষ দেখেছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই অমর সৃষ্টি তথা জাতীয় গীতের এমন চরম অবমাননা আমরা পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বাংলার মানুষ তাদের এই জাতীয় আবেগের অবমাননা মেনে নেবে না এবং এর জন্য কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।”

এই একই ইস্যুতে রাজস্থানের চিত্তোরগড়ের এক জনসভা থেকে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের বিরুদ্ধে সুর চড়ান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “হাজার হাজার স্বাধীনতা সংগ্রামী যে ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিতে দিতে ফাঁসির দড়ি গলায় পরেছিলেন, ভোটব্যাঙ্কের লোভে কংগ্রেস আজ সেই জাতীয় গীতকে ভুলে যেতে বসেছে। সনিয়া গান্ধী যেভাবে গানটি মাঝপথে থামানোর চেষ্টা করেছেন, সেই পাপ এদেশের মানুষ কোনোদিন ক্ষমা করবে না। যদি কংগ্রেসের সামান্যতম লজ্জা থাকে, তবে তাদের হাত জোড় করে দেশবাসী এবং বঙ্কিম বাবুর অমর আত্মার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

বিজেপির এই অল-আউট আক্রমণের মুখে রাজনৈতিক ও আইনি আত্মরক্ষায় নেমেছে কংগ্রেস শিবির। কংগ্রেসের মুখপাত্রদের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সনিয়া গান্ধী জাতীয় গীত থামানোর কোনো চেষ্টা করেননি। স্বাধীনতা দিবসের ওই অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁর বসার জন্য একটি চেয়ারের ব্যবস্থা করতেই সনিয়া গান্ধী সেখানে ইশারা করছিলেন, যাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভুলভাবে প্রচার করছে বিজেপি। তবে এই রাজনৈতিক তরজার মাঝেই কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুর উর্বা থানায় এবং দিল্লির একাধিক জায়গায় সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মানহানি প্রতিরোধ আইনের অধীনে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সব মিলিয়ে বন্দে মাতরম বিতর্ককে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে দেশীয় রাজনীতি সম্পূর্ণ তোলপাড়।

Exit mobile version