Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোট চলাকালীন শুনশান আস্ত বুথ! পিংলায় চরম নজিরবিহীন পদক্ষেপ কমিশনের, সব ভোটকর্মীকে একসঙ্গে ‘শাস্তি’!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচন চলাকালীন বুথের ভেতরে ভোটাররা থাকলেও উধাও ভোটকর্মীরা! নজিরবিহীন এই ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় পিংলার ৯ নম্বর বুথে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কর্তব্যে এমন চরম গাফিলতি বরদাস্ত করেনি নির্বাচন কমিশন। তৎক্ষণাৎ ওই বুথের সমস্ত পোলিং অফিসার সহ প্রিসাইডিং অফিসারকে সাসপেন্ড বা সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

ঠিক কী ঘটেছিল? গতকাল দুপুরে যখন পিংলার ওই বুথটিতে ভোটগ্রহণ পর্ব মধ্যগগনে, তখন আচমকাই দেখা যায় বুথটি পুরোপুরি জনমানবহীন। ভেতরে কোনো ভোটকর্মী নেই। অথচ বাইরে ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছেন। অভিযোগ ওঠে, প্রিসাইডিং অফিসার এবং অন্যান্য ভোটকর্মীরা নিয়ম ভেঙে একযোগে বুথ ফাঁকা রেখে মধ্যাহ্নভোজ বা লাঞ্চ করতে চলে গিয়েছিলেন। বুথটি দীর্ঘক্ষণ অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় নিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দেয়।

ঘটনাটি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, বুথ কখনও সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখা যায় না; পোলিং অফিসারদের পর্যায়ক্রমে বিরতি নেওয়ার কথা। কিন্তু এখানে সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এর পরপরই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে ওই বুথের পুরো টিমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের সাসপেন্ড করা হয়।

তড়িঘড়ি ‘রিজার্ভ’ পোলিং টিম পাঠিয়ে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়েছে। জেলা শাসক ও নির্বাচন আধিকারিককে গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রের উৎসবে ভোটকর্মীদের এমন ‘বেপরোয়া’ মনোভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে ভোটারদের স্বার্থে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করায় কমিশনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকে।

Exit mobile version