প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পরেই মুর্শিদাবাদে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে বহরমপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল সভাপতি রাজু মণ্ডলের। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে শুক্রবার রাতেই তাঁকে জালে তুলেছে পুলিশ।
কী ছিল সেই ভাইরাল ভিডিওতে? (রহস্যের উন্মোচন)সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি ভিডিও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে (যার সত্যতা আমাদের পোর্টাল যাচাই করেনি)। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রচারের আড়ালে রাজু মণ্ডল ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে কার্যত হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, কারা কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারিতে রাখা হবে। এমনকি নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলকে (পদ্মফুল) ভোট না দেওয়ার জন্য তিনি ভোটারদের সরাসরি চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি হলো, যখন ওই নেতাকে বলতে শোনা যায়— “ভোট নিয়ে কোনো গোলমাল হলে বুথে যাওয়ার দরকার নেই, আমি বাড়িতেই ছানাবড়া-রসগোল্লা পাঠিয়ে দেব।”
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এই ‘মিষ্টি’ কি আসলে কোনো অশুভ সংকেত নাকি ভোটারদের ঘরবন্দি করার এক পরিকল্পিত ছক? ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ জানায় বিরোধী দলগুলো। বিশেষ করে বিজেপি এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছেন ওই শাসকদলীয় নেতা। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে কমিশন দ্রুত সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় এবং শুক্রবার রাজু মণ্ডলকে আটক করা হয়।
এই ঘটনার পর বিজেপি-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, “তৃণমূল এখন জনবিচ্ছিন্ন। মানুষ দুহাত তুলে বিজেপি-কে সমর্থন করছে দেখে ভয় পেয়েছে শাসকদল। তাই এখন গুণ্ডামি আর ভয়ের রাজনীতি করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চলছে।” বিজেপির আইটি সেলের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, এই নক্ক্যারজনক ঘটনায় কার্যত মুখ পুড়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। দলের কোনো শীর্ষ নেতা এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সাফাই দিতে পারেননি।
বর্তমানে সেই রাজু মণ্ডলের বিরুদ্ধে নির্বাচন বিধিভঙ্গ এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর একাধিক ধারায় মামলা রুজু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে এই গ্রেফতারি জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশের তদন্ত এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই চক্রে আরও কোনো রাঘববোয়াল জড়িত কি না, সেটাই এখন দেখার।
