Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের আগে বড়সড় অপারেশন! পুলিশের জালে প্রভাবশালী ‘শাসক নেতা’, কোন গোপন ছক বানচাল করতে এই পদক্ষেপ?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যজুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই দিকে দিকে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। কিন্তু এই নির্বাচনী আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জিবনতলা থানার অন্তর্গত দেউলি গ্রামে যা ঘটল, তাকে হিমশৈলের চূড়া বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাত তখন গভীর, গোটা গ্রাম যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই অতর্কিতে হানা দেয় জিবনতলা থানার পুলিশের এক বড় কনভয়। চারপাশ ঘিরে ফেলে টার্গেট করা হয় এলাকার এক দাপুটে ‘শাসক নেতাকে’। কিন্তু কেন এই ঝটিকা অভিযান? কোন অশুভ নীল নকশা বানচাল করতে মাঝরাতে সক্রিয় হলো প্রশাসন?

পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে ধরা পড়েছেন এলাকার প্রভাবশালী শাসক নেতা তথা দেউলি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাফিজুল মোল্লা। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ আসছিল। গ্রামের মানুষ একপ্রকার ভয়ে কুঁকড়ে থাকতেন তাঁর দাপটে। কিন্তু গতকাল রাতের অভিযানে সেই দাপটে ছেদ পড়ল। জিবনতলা থানার পুলিশ তাঁকে তাঁর বাসভবন থেকেই গ্রেফতার করে। হাফিজুল মোল্লার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। মূলত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যাতে সাধারণ মানুষ নিজেদের পছন্দমতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন, তার জন্য তিনি উঠেপড়ে লেগেছিলেন বলে অভিযোগ।

নির্বাচন কমিশনের (ECI) তথ্য অনুযায়ী, হাফিজুল মোল্লা জিবনতলা এলাকায় বিরোধীদের প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, ভোটারদের মনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে নির্দিষ্ট এক দিকে ভোট দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনের দিন যাতে ভোটাররা বুথমুখী না হন, তার জন্য তিনি এক গোপন ‘নীল নকশা’ তৈরি করছিলেন। বুথ দখলের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মনে ত্রাস সৃষ্টিই ছিল তাঁর মূল অস্ত্র। এই গ্রেফতারি নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য টুইট করে জানান, “ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দেউলি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাফিজুল মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে”। বিজেপির জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি গণতন্ত্রের জয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয় হওয়ার আগেই এই গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে, অভিযোগগুলো কতটা জোরালো ছিল।

আজই হাফিজুল মোল্লাকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির অভিযোগে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়, যাতে এই ষড়যন্ত্রের শেকড় কতদূর বিস্তৃত তা জানা যায়।

হাফিজুলের গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই দেউলি গ্রামে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। এখন প্রশ্ন একটাই— এই গ্রেফতারি কি স্রেফ ভোটের আগের কোনো প্রশাসনিক তৎপরতা, নাকি সত্যিই দেউলি গ্রামের সাধারণ মানুষ এবার নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন? পর্দার আড়ালে থাকা বাকি অপরাধীদের কি খুঁজে বের করবে প্রশাসন? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা জিবনতলা।

Exit mobile version