Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বসিরহাটে বিরাট বিস্ফোরণ! ভোটের আগে কার পায়ে ধরলেন বাবু মাস্টার? ২০২৬-এর আগে ফাঁস হলো তৃণমূলের গোপন নীল নকশা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা মহাযুদ্ধের দামামা বাজতে না বাজতেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। যে নেতাকে একসময় ‘গদ্দার’ বা ‘মীরজাফর’ তকমা দিয়ে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল ঘাসফুল শিবির, আজ সেই ফিরোজ কামাল গাজি ওরফে বাবু মাস্টারকেই সসম্মানে রাজতিলক পরিয়ে দলে ফেরাতে বাধ্য হলেন তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা আসলে ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে বসিরহাটের মাটিতে তৃণমূলের চরম পরাজয় আর আতঙ্কেরই আগাম পূর্বাভাস।

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূলের অন্দরের ‘দমবন্ধ করা’ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে  বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বাবু মাস্টার। সে সময় তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলাও হয়েছিল, যার আঙুল উঠেছিল শাসকদলের দিকেই। কিন্তু সময় বড় বলবান। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে দেখা যাচ্ছে, হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ ও সন্দেশখালির বিস্তীর্ণ এলাকায় বিজেপির যে দুর্ভেদ্য সংগঠন গড়ে উঠেছে, তা ভাঙার মত কোনো সেনাপতি খুঁজে পাচ্ছে না তৃণমূল। বাধ্য হয়েই তাই পুরোনো ‘চাণক্য’ বাবু মাস্টারের শরণাপন্ন হতে হয়েছে তাদের।

বিজেপির জেলা নেতৃত্বের দাবি, বসিরহাটে এখন তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি আর নেই। একের পর এক দুর্নীতি আর সন্দেশখালির ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ঘাসফুল শিবির। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে তারা এখন পুরোনো সেই নেতাদেরই ‘পায়ে ধরছে’, যাদের একসময় রাস্তায় নামিয়ে অপমান করা হয়েছিল। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, “তৃণমূল এখন একটি ডুবন্ত নৌকা। ছিদ্র ঢাকতে তারা এখন ছেঁড়া তালি দিচ্ছে। বাবু মাস্টারের মতো নেতাদের ফিরিয়ে আনা আসলে তাদের দেউলিয়া রাজনীতির প্রমাণ।”

গোপন সূত্রের খবর, বাবু মাস্টারকে ফেরানোর নেপথ্যে রয়েছে ২০২৬-এর এক কুৎসিত নির্বাচনী ছক। শোনা যাচ্ছে, হিঙ্গলগঞ্জ ও হাসনাবাদ এলাকায় বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে এবং সীমান্ত এলাকায় শক্ত হাতে রাশ ধরতে বাবু মাস্টারকে ব্যবহার করতে চাইছে শাসকদল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে তৃণমূল কর্মীরা গত কয়েক বছর বাবু মাস্টারের বিরুদ্ধে লড়াই করলেন, তারা কি এই ‘ভোলবদল’ মেনে নেবেন? নাকি এই দলবদলই তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দেবে?

পুরো বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বাবু মাস্টার জানিয়েছেন যে তিনি উন্নয়নের স্বার্থে ফিরছেন। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই উন্নয়ন আসলে ‘ভয়ের উন্নয়ন’। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মানুষ আর বোকা নয়। কে কোথায় যাচ্ছে তার চেয়েও বড় কথা, সাধারণ মানুষ মোদীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ‘আয়া রাম গয়া রাম’ রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করতে তৈরি।

বাবু মাস্টারের এই প্রত্যাবর্তনে তৃণমূলের অন্দরে একদিকে যেমন উল্লাস চলছে, অন্যদিকে চাপা আতঙ্কও বিরাজ করছে। বসিরহাটের সাধারণ মানুষের দাবি— দলবদল যতই হোক, ২০২৬-এ আসল খেলা দেখাবে জনতা জনার্দনই। তৃণমূলের এই ‘মরিয়া’ চেষ্টা আসলে আসন্ন পরাজয়ের আগাম স্বীকারোক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। বসিরহাটের রাজনীতির জল এখন কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।

Exit mobile version