Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের আগে রণধীর কুমারের ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’! খোদ DEO-কে রাস্তায় দেখে দক্ষিণ কলকাতায় শোরগোল, এবার কি তবে বড় কোনো পদক্ষেপ?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই দক্ষিণ কলকাতার রাজপথে দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে হারানো আত্মবিশ্বাস ফেরাতে এবং দুষ্কৃতীদের কড়া বার্তা দিতে এবার সরাসরি বুথস্তরে নেমে এলেন দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) রণধীর কুমার। কোনো বড়সড় রাজনৈতিক সভার জন্য নয়, বরং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে খোদ প্রশাসনিক প্রধানের এই রাস্তায় নামা নিয়ে বর্তমানে শহরজুড়ে প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এদিন রণধীর কুমার কেবল প্রশাসনিক ফাইলবন্দি নির্দেশিকা নয়, সরাসরি জনসংযোগে জোর দেন। ভবানীপুর এবং কলকাতা পোর্ট বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে তিনি সরেজমিনে তদন্ত করেন। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে চান, ভোট দেওয়া নিয়ে তাঁদের মনে কোনো ভয় বা আতঙ্ক আছে কি না। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের এই সংবেদনশীল অথচ দৃঢ় ভঙ্গি দেখে আশ্বস্ত হয়েছেন গৃহবধূ থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকরাও।

রণধীর কুমারের এই সফরের সাথে ছিল কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) একটি বিশাল দল। দক্ষিণ বন্দর থানা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যখন বাহিনীর জওয়ানরা রুট মার্চ করছিলেন, তখন খোদ DEO-কে সেখানে উপস্থিত থেকে এলাকা পরিদর্শন করতে দেখা যায়। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে ভোটারদের মনে কোনো প্রকার ভীতির সঞ্চার না হয় এবং বুথ চত্বর সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে বা কেউ ভোটারদের বাধা দিলে তৎক্ষণাৎ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দুষ্কৃতীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ‘বার্নল ও বোরোলিন’ মজুত রাখার একটি বার্তা এসেছিল। সেই পোস্ট নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বাদানুবাদ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সেই বিতর্কিত পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হলেও, রণধীর কুমার বুঝিয়ে দিলেন যে তিনি কেবল ভার্চুয়াল জগতে হুঁশিয়ারি দিয়েই ক্ষান্ত নন, বরং রাজপথে নেমে কাজ করতেও পিছপা নন। আধিকারিকদের মতে, “বার্নল-বোরোলিন” বিতর্কের চেয়েও বড় বিষয় হলো সাধারণ মানুষকে বুথ পর্যন্ত নিয়ে আসা।

প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, সাধারণত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা কন্ট্রোল রুম থেকে গোটা বিষয়টি তদারকি করেন। কিন্তু রণধীর কুমারের এই ‘ফিল্ড ভিজিট’ আদতে ভোটারদের জন্য একটি শক্তিশালী সিগন্যাল। এটি যেমন সাধারণ মানুষের মনে সাহস জোগাচ্ছে, তেমনই অসামাজিক শক্তির কাছে একটি কড়া সতর্কবার্তা। দক্ষিণ কলকাতার অলিতে-গলিতে এখন একটাই প্রশ্ন—ভোটের দিনও কি প্রশাসনের এই রণংদেহী মেজাজ বজায় থাকবে? তবে আপাতত রণধীর কুমারের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলে যে নতুন আলোচনার জন্ম দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version