Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের রায়ে বাংলায় ঐতিহাসিক পালাবদল, আজ কি তবে পরাজয় পরবর্তী রোডম্যাপ দেবেন মমতা?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ৪ মে এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া এবার স্পষ্ট। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি ২০৬ টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই জনমতের আবহে আজ বিকাল ৪ টেয় কালীঘাটে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতকাল গণনার শুরু থেকেই একের পর এক তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পদ্মফুল ফুটতে দেখা গেছে। সবথেকে বড় চমক তৈরি হয়েছে খোদ ভবানীপুর কেন্দ্রে, যেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন বলে কমিশন সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরাজয় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরাজয়ের পর গতকালই তৃণমূল নেত্রী ‘লুট’-এর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন। আজকের বৈঠকে তিনি সেই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেবেন কি না, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, এই জয় আসলে ‘গণতন্ত্রের জয়’ এবং বাংলার মানুষের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও উঠে এসেছে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকার। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মেলনে বিদায়ী সরকার বা বিরোধী নেত্রী হিসেবে তাঁর অবস্থান কী হবে, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা। তিনি কি এই গণতান্ত্রিক রায়কে সাদরে গ্রহণ করবেন, নাকি বরাবরের মতো ফের কোনো যান্ত্রিক কারচুপি বা ষড়যন্ত্রের তত্ত্বে অনড় থাকবেন—সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।

পরাজয়ের গ্লানি ভুলে কর্মীদের চাঙ্গা করতে নতুন কোনো আন্দোলনের রূপরেখা দিতে পারেন তিনি। গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি ইতিপূর্বেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আজ হয়তো কোনো বিশেষ আইনি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করতে পারেন। হারের কারণ পর্যালোচনার কথা বলে দলীয় সংগঠনে রদবদলের বার্তা দিতে পারেন।

বাংলার মানুষ শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছে বলে মনে করছে জয়ী শিবির। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য থেকে রাজ্য রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, তাই এখন দেখার।

Exit mobile version