Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“টাকা কোথায়?” ভোটের মাঝেই চরম বিপাকে সোহম চক্রবর্তী! হাইকোর্টের এই নির্দেশে কাঁপছে টলিউড থেকে রাজনীতি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
চন্ডীপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা টলিউড তারকা সোহম চক্রবর্তীর নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই আছড়ে পড়ল আইনি ঝটকা। এবার আর কোনো রূপোলি পর্দার লড়াই নয়, সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের কাঠগড়ায় অভিনেতা। প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকার এক ‘ঋণখেলাপি’র অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারপতি ইতিমধ্যেই আগামী ২ এপ্রিল সোহম চক্রবর্তী বা তাঁর প্রতিনিধিকে আদালতে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলাকারী শাহিদ ইমামের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। হুগলির এই ব্যবসায়ীর দাবি, ২০২১ সালে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সোহম চক্রবর্তী তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৬৮ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু ছবি মুক্তি বা দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সেই টাকা ফেরত পাননি তিনি। শাহিদ ইমামের বিস্ফোরক দাবি, “আমি বারবার টাকা ফেরত চেয়েছি, কিন্তু প্রতিবারই আমাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি শেষমেশ পাওনা টাকা চাইলে আমাকে হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।” এই মর্মে তিনি আগেই চারু মার্কেট থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, অভিযোগকারী শাহিদ ইমাম নিজেও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এবং নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোয় তিনি ২০২২ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে জামিনে মুক্ত হওয়ার পরেই তিনি সোহমের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটেন। সোহম চক্রবর্তীর ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ তত্ত্বের কড়া জবাব দিয়ে শাহিদ বলেন, “সোহম কবে রাজনীতিতে এসেছেন? উনি নিজের স্বার্থে দলে এসেছেন। আমাদের পরিবার জন্মলগ্ন থেকে কংগ্রেস ও পরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে রাজনীতি করি, সোহমকে দেখে নয়।”

অন্যদিকে, অভিনেতা-বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, তিনি কাউকে কোনো হুমকি দেননি। তিনি এর আগে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের মুখে তাঁকে কালিমালিপ্ত করতেই এই ধরণের অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তবে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে বিষয়টি এখন আর কেবল রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়িতে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে চলে এসেছে।

কলকাতা হাইকোর্ট মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং আগামী ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন সোহম চক্রবর্তী বা তাঁর আইনজীবী আদালতকে কী সাফাই দেন, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। ভোটের আগে এই ধরণের ‘আর্থিক কেলেঙ্কারি’র অভিযোগ সোহমের ইমেজ এবং নির্বাচনী ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version