Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের মুখে ‘সাদা খাম’ রহস্য! তৃণমূল প্রার্থীর ডেরায় এ কীসের লেনদেন? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বাংলার বিধানসভা ভোটের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে শাসকদলের প্রার্থীর ‘খাম’ বিলির একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহাপ্রলয়। ভোটের মুখে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—ওই সাদা খামের ভেতরে আসলে কী লুকিয়ে আছে? পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কি তবে অন্য পথে হাঁটছে ঘাসফুল শিবির? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে (উক্ত ভিডিওর সত্যতা আমাদের পোর্টাল যাচাই করেনি)। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী গৌতম পাল এবং তাঁর স্ত্রী, তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি পম্পা পাল তাঁদের কিছু মানুষের হাতে পাঞ্জাবি এবং একটি করে সাদা খাম তুলে দিচ্ছেন। বিজেপি প্রার্থী বিরাজ বিশ্বাসের সরাসরি অভিযোগ, ওই খামের ভেতরে নগদ টাকা ভরে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদর্শ নির্বাচনী আচরণ বিধি (MCC) চলাকালীন একজন প্রার্থী কীভাবে এভাবে খাম বিলি করতে পারেন, তা নিয়ে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির।

বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যেতেই মুখ খুলেছেন তৃণমূল প্রার্থী গৌতম পাল। তাঁর দাবি, তাঁদের একটি নিজস্ব এনজিও (NGO) রয়েছে এবং সেখান থেকেই শুভেচ্ছা বিনিময় ও উপহার দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, সারা বছর এই এনজিও-র জনহিতকর কাজ সেভাবে চোখে না পড়লেও, ঠিক বিধানসভা ভোটের মুখেই কেন এই দান-ধ্যানের ধুম পড়ল? এনজিও-র নাম কি আসলে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের একটি আইনি ঢাল? এই প্রশ্নটিই এখন করণদিঘির প্রতিটি মোড়ে আলোচিত হচ্ছে।

বিজেপি প্রার্থী বিরাজ বিশ্বাস তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “তৃণমূল বুঝে গেছে সাধারণ মানুষ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই এখন খামে করে টাকা বিলি করে জনমত কেনার এক মরিয়া ও কদর্য চেষ্টা চলছে।” ইতিমধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ভোটের পবিত্রতা নষ্ট না হয়। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে দানা বেঁধেছে গভীর রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন—বিগত কয়েক বছরে শাসক দলের একের পর এক নেতার নাম জড়িয়েছে নানা কেলেঙ্কারিতে। এবার ‘খাম-কাণ্ড’ সেই তালিকায় নতুন সংযোজন কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে এই ভাইরাল ভিডিও যে ভোটের মুখে তৃণমূলকে যথেষ্ট চাপে ফেলে দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Exit mobile version