Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের মুখে আমজনতার যাতায়াতে ‘বড় কোপ’? নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে চরম বিপাকে বাইক চালকরা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এবার কার্যত কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের ভোটচিত্র থেকে অশান্তি ও ভয়ভীতির ছায়া সরাতে কমিশনের কড়া নজর এখন রাস্তাঘাটে দাপিয়ে বেড়ানো মোটরবাইকের ওপর। ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং বাইক বাহিনীকে রুখতে এমন কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা শুনে সাধারণ বাইক চালকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

বিগত নির্বাচনগুলির অভিজ্ঞতা থেকে কমিশন দেখেছে, ভোটের আগে একদল যুবক বাইক নিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায়, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করে। এই ‘বাইক সংস্কৃতি’ সমূলে উৎপাটন করতেই কমিশনের এই কঠোর দাওয়াই।

ভোটের অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরণের রাজনৈতিক বাইক মিছিল বা র‍্যালি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনোভাবেই শক্তির আস্ফালন বরদাস্ত করা হবে না। ভোটের দু’দিন আগে থেকে রাত নামলেই বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরোনোয় থাকছে বড় নিষেধাজ্ঞা। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচলে কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। দিনের বেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও থাকছে কড়াকড়ি। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, বাইকে কেবল চালকই থাকতে পারবেন। পিছনে কোনো আরোহী বসানো যাবে না। ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেবল ভোটার কার্ড দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অনুমতি মিলবে। তবে এক্ষেত্রেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাইক ব্যবহার করলে তৎক্ষণাৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে কিছু ছাড়ও রেখেছে কমিশন। তবে তার জন্য উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে। অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাতায়াত।
স্কুল পড়ুয়াদের পরীক্ষা বা যাতায়াত। অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা (যেমন সংবাদমাধ্যম বা জরুরি পরিষেবা)।

পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাস্তায় প্রতিটি বাইকে তল্লাশি চালাতে। বৈধ নথি এবং সঠিক কারণ ছাড়া বাইক নিয়ে বেরোলে গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের এই কড়াকড়িতে একদল যেমন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, তেমনই সাধারণ নিত্যযাত্রীরা যাতায়াতের সমস্যা নিয়ে বেশ চিন্তিত। তবে কমিশনের সাফ কথা—শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থে এইটুকু নিয়ন্ত্রণ অনিবার্য।

Exit mobile version