প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যে সমস্ত বিরোধী দল বা যে সমস্ত বিরোধী নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদটা করেন, তাদের কণ্ঠস্বর বন্ধ করাই তার প্রধান লক্ষ্য। আর সেই কারণেই পুলিশকে ব্যবহার করে যারাই সঠিকভাবে বিরোধিতা করেন, তাদেরকে বিভিন্ন মিথ্যে মামলা দিয়ে জব্দ করার কৌশল বেছে নেয় এই রাজ্যের প্রশাসন বলেই অভিযোগ ওঠে বিরোধীদের পক্ষ থেকে। এমনকি শুধু সেই বিরোধী নেতা নয়, তাদের পরিবার পরিজনকেও কি করে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিব্রত করা যায়, তার চেষ্টা সব সময় এই রাজ্যের শাসক দল এবং তার দলদাস প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয় বলে অভিযোগ। সম্প্রতি দল ত্যাগ করে নতুন দল গঠন করে সংখ্যালঘু ভোটকে নিজের দিকে আনার জন্য হুংকার ছাড়ছেন হুমায়ুন কবীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোমতই বুঝতে পারছেন, তার যে সাধের সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে, হুমায়ুনবাবু যদি সঠিকভাবে ফর্মুলা কষে লড়াই করেন, তাহলে সেই সংখ্যালঘু ভোট তার দিকে থাকবে না। আর সেই কারণেই এখন তিনি পুলিশকে দিয়ে কি আবার সেই হুমায়ুনবাবুকে এবং তার পরিবারকে বিব্রত করতে শেষ চেষ্টা শুরু করে দিলেন? শুরু হয়ে গেল ভোটের আগে রাজনীতির প্রতিহিংসার খেলা? ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে চর্চা।
এতদিন হুমায়ুন কবীর তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন। কিন্তু সেই সময় তার জামাই বা তার পরিবার সম্পর্কে কোনো অভিযোগ ওঠেনি এবং সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই হুমায়ুন কবীর যখন নতুন দল গঠন করলেন এবং প্রতিনিয়ত তৃণমূলকে চাপে রাখার বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই পুলিশের সক্রিয়তা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে যে, তাহলে কি ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুনবাবুকে চাপে রাখতেই পুলিশকে দিয়ে এই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করতে চাইছে? হুমায়ুনবাবুর অবশ্য অভিযোগ তেমনটাই। আর তার মাঝেই এবার সেই হুমায়ুন কবীরের জামাইকে তলব করলো পুলিশ।
সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীরের জামাইয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ টায় লালগোলা থানায় তাকে তলব করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের এই সক্রিয়তা নিয়েই বিভিন্ন মহলে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। বিরোধীদের বক্তব্য, যদি এই ঘটনার সত্যতা থাকে, তাহলে পুলিশ অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু হঠাৎ করেই কেন এই সমস্ত খবর পুলিশের কাছে আসতে শুরু করেছে? এতদিন তো হুমায়ুন কবীর তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার পরেও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই সমস্ত অভিযোগের সারবত্তা পাওয়া যায়নি। তবে তিনি কি তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপিয়ে রাখার কৌশল নিতেই তার পরিবারকে চাপে রাখতেই এই ধরনের মামলা এবং তলবের ঘটনা? স্বাভাবিক ভাবেই ভোটের আগে পুলিশের এই সক্রিয়তা নিয়ে হুমায়ুন কবীরের ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে তোলা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।
